আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরান আচমকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইজরায়েল। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের পাশাপাশি ইজরায়েলকেও লক্ষ্য করে এই আক্রমণ হতে পারে। জেরুজালেমের আশঙ্কা তেমনটাই। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের এই সম্ভাব্য আক্রমণের কথা ভেবে এদিন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক আধিকারিকরা একটি বৈঠক করেছিলেন। দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বিগ্ন, তাই সতর্কতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতি এমন সময়ে তৈরি হল যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষভাবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ভাবনা এখন মিলছে না। এদিন ট্রাম্প আর বেঞ্জামিন ঘণ্টা খানেক সময়ের একটি আলোচনা করেছিলেন। জানা গিয়েছে, ইসলামিক রিপাবলিকের উপরে ইজরায়েল বিমান আক্রমণ করতে চায়। অন্য দিকে, আবারও সশস্ত্র আক্রমণের আগে আমেরিকা একবার যুদ্ধের কূটনৈতিক দিকটাও ভেবে দেখতে চাইছে। 

বেঞ্জামিন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট নন। উল্টে তেহেরানের সামরিক শক্তিকে যুদ্ধের মাধ্যমে আরও দুর্বল করে তুলতে চাইছেন। পুনরায় সশস্ত্র যুদ্ধের পক্ষে তিনি আগ্রহী। কিন্তু ট্রাম্প শান্তিচুক্তিকে একবার সুযোগ দিতে চান বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে, যদি শান্তি চুক্তি ব্যর্থ হয় তাহলে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে তিনি পিছপা হবেন না। 

ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েলের এই উত্তেজনার মধ্যস্থতায় কাতার ও পাকিস্তান একটি প্রস্তাবনা পত্র পেশ করেছে। সেখানে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়কেই সই করতে হবে যুদ্ধ বিরতির পক্ষে। কিন্তু এই প্রস্তাবে ইজরায়েল গড়রাজি। এদিকে, মার্কিন প্রধান জনসমক্ষে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ভীষণই ভাল। আমি যা চাইব ইজরায়েল সেটাই করবে।’ 

রয়টার্স সূত্রে খবর, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এখনও কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তবে দুই পক্ষের মতপার্থক্য কিছুটা কমেছে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজরায়েল আশঙ্কা করছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান প্রস্তুতির সময়ও না দিয়ে সরাসরি আক্রমণ করবে। কর্মকর্তারা এই অভিযানটিকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন বোয়ারিং লায়ন’ এর প্রাথমিক পর্যায়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। 

অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। শুক্রবার তেলের দাম বেড়েছে। কারণ, আমেরিকা ও ইরানের আলোচনায় দ্রুত সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।