আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্ক (আমদানি শুল্ক), ফের পড়তে পারে আইনি জটিলতার মুখে। ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA) ব্যবহার করে এর আগে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই ট্রাম্প সরকার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ প্রয়োগ করে নতুন করে শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। 

ধারা ১২২ অনুযায়ী, বড় ও গুরুতর রকমের আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানে সমস্যা দেখা দিলে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন। ট্রাম্প সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য-বাণিজ্যে ঘাটতি, জিডিপির ৪ শতাংশের ঘাটতি, এবং মূল আয়ের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, এসবই গুরুতর সংকটেরই ইঙ্গিত। 

তবে একাধিক অর্থনীতিবিদ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রাক্তন প্রধাণ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গীতা গোপীনাথ-সহ অনেক অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের সংকটে নেই। ডলারের তীব্র অবমূল্যায়ন, ঋণের সুদের হঠাৎ বৃদ্ধি বা বিদেশি পুঁজির হ্রাস, এ ধরনের কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। 

গোপীনাথের কথায়, “আমরা সকলেই এই বিষয়ে একমত হতে পারি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থপ্রদানের ভারসাম্যমূলক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে না। তেমন পরিস্থিতিতে পড়লে দেশের আন্তর্জাতিক ঋণের খরচ অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাজারে প্রবেশাধিকার হারায়।” 

সুপ্রিম কোর্টে আইইইপিএ -এর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকারী নীল কাটিয়াল বলেন, “আমি নিশ্চিত নই সরকার পক্ষকে আবারও সুপ্রিম কোর্টে যেতে হতে পারে কিনা। তবে যদি রাষ্ট্র প্রধান এমন একটি আইন ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেন, যা তাঁর নিজের বিচার বিভাগই ব্যাবহার করা যাবে না বলে দাবি করেন, সেক্ষেত্রে এই ধারা ঘিরে মামলা করা সহজ।”

আটলান্টিক কাউন্সিল থিঙ্ক ট্যাঙ্কের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান জশ লিপস্কি একমত পোষণ করেন। তাঁর বক্তব্যে, “যখন কোনও দেশ আমদানিরত পণ্যের জন্য অর্থ প্রদান করতে পারে না বা বিদেশী ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম হয় তখন সেই দেশে অর্থ প্রদানের ভারসাম্য সংকট দেখা দেয়।” আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ট্রাম্প সরকারে পূর্বতন আদালত-দাখিল নথিতেই স্বীকার করা হয়েছিল যে বাণিজ্য ঘাটতি ও ব্যালান্স অব পেমেন্টস ঘাটতি ভিন্ন বিষয়। ফলে সেকশন ১২২ প্রয়োগের বৈধতা আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। 

এই আইনের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি আপত্তি উঠলে আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিশ্চিত নয়। নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা, বেশ কয়েকটি ছোট ব্যবসাকে প্রতিনিধিত্ব করা, একটি জনস্বার্থ আইন সংস্থা, লিবার্টি জাস্টিস সেন্টারের সভাপতি সারা আলব্রেখট জানিয়েছেন, বিরুদ্ধ দলটি নতুন আইন শুল্ক প্রয়োগের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখবে। যদিও সম্ভাব্য মামলার রায় ১৫০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া কঠিন। তবু পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সময়ের মধ্যে প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে বিদ্যমান সেকশন ২৩২ ও ৩০১ আইনি ধারায় নতুন শুল্ক আরোপের পথ খোলা রাখতে চাইছেন।