আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজের শহর অথবা গ্রাম বা অথবা রাজ্য বা দেশকে নিরাপদ রাখতে অনেক রকম আইন বলবৎ করা হয়। সেটা স্থানীয় স্তরেও হতে পারে কিংবা দেশীয় স্তরেও হতে পারে। কিন্তু বিশ্বে এমন একটি শহর রয়েছে যেখানে এমন এক আইন চালু রয়েছে যা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন সকলেই। এই শহরের আইন বলছে, সেখানে ‘মারা যাওয়া নিষিদ্ধ’। স্পেনের গ্রানাডা প্রদেশের ছোট একটি শহর লাঞ্জারনে প্রায় ২৬ বছর ধরে বলবৎ রয়েছে এই অদ্ভুত আইনটি। ১৯৯৯ সালে লাঞ্জারনের তৎকালীন মেয়র হোসে রুবিও একটি হাস্যরসাত্মক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ফরমান জারি করেন ‘লাঞ্জারনে মারা যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’। এর পিছনের কারণ অবশ্য ছিল অন্য।
জানা যায়, সেই সময় শহরে গুরুতর ভাবে কবরস্থানের সংকট দেখা গিয়েছিল। তখনকার একমাত্র কবরস্থানে আর নতুনভাবে কবর দেওয়ার মতো জায়গা ছিল না। মেয়র হোসে রুবিও এই আদেশ জারি করে বলেন, ‘আমি শুধু একজন মেয়র। আমার উপরে আছেন ঈশ্বর, যিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। সবাই এই নির্দেশকে হাস্যরসের সঙ্গে নিয়েছে এবং মেনে চলার চেষ্টাও করছে’। তবে মেয়রের এই নির্দেশ মূলত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতেই জারি করা হয়েছিল, যাতে দ্রুত নতুন কবরস্থানের জন্য জমি খোঁজা যায়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তৎকালীন মেয়রের নির্দেশের ২৬ বছর পরেও লাঞ্জারনে শুধু ওই একটিমাত্র কবরস্থানই রয়েছে।
আরও পড়ুন: বীভৎস! রক্তমাখা দেহের ওপর নগ্ন হয়ে নাচ! পর্ন তারকার ভয়াবহ কাণ্ড ফাঁস
লাঞ্জারন, আন্দালুসিয়ার গ্রানাডা প্রদেশের আলপুজার্রা অঞ্চলে অবস্থিত এক চিত্রাঙ্কিত পাহাড়ি শহর। সিয়েরা নেভাদা পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত এই শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খনিজজল নির্ভর স্পা-এর জন্য সুপরিচিত। লাঞ্জারনের খনিজজল বিশিষ্ট স্পা কেন্দ্র ১৮০০ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি বাত, হজম সমস্যা ইত্যাদির জন্য চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবেও খ্যাত। শহরটি প্রতি বছর জুন মাসের ২৪ তারিখে ‘ফিয়েস্তা দেল আগুয়া ই হামোন’ (জল ও হ্যামের উৎসব) উদযাপন করে, যেখানে শহরবাসী ও পর্যটকেরা রাস্তার মাঝে জল ছিটিয়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন। এই শহরের অর্থনীতি মূলত খনিজজল, পর্যটন এবং কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এখানকার জল আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত। অলিভ, আঙুর এবং বাদাম চাষ এখানকার প্রধান কৃষিপণ্য।
সম্প্রতি লাঞ্জারন আবারও আলোচনায় এসেছে টিকটকে ভাইরাল হওয়ার পর। বার্সেলোনা বা মায়োর্কার মতো জমজমাট শহরের বাইরে শান্ত, প্রাকৃতিক বিকল্প খুঁজছেন এমন পর্যটকদের কাছে শহরটি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে বড় বিষয় হল এই শহরটিই সারা বিশ্বে একমাত্র শহর নয় যেখানে মৃত্যু নিষিদ্ধ রয়েছে। স্পেনের বাইরে, নরওয়ের লঙ্গইয়ারবিয়েন নামের শহরেও ১৯৫০ সাল থেকে মৃত্যু ‘নিষিদ্ধ’। কিন্তু এখানে মারা যাওয়ার নিষিদ্ধ করার পিছনে সম্পূর্ণ অন্য কারণ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বরফাচ্ছন্ন জমিতে কবর দেওয়া মৃতদেহ পচে না, ফলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। ফলে সেখানেও নতুন কবর দেওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। তবে লাঞ্জারনে মৃত্যু ‘নিষিদ্ধ’ হওয়ার ঘটনা রীতিমত ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এই কথা জানতে পেরে অনেক পর্যটক এই ছোট্ট শহরে ভিড় জমাচ্ছেন।
