আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত কি তবে শেষের পথে, নাকি এটি স্রেফ আইনি মারপ্যাঁচ এড়ানোর একটি কৌশল? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক ঘোষণা ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। শুক্রবার কংগ্রেসের নেতাদের কাছে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে চলা শত্রুতার ‘অবসান’ ঘটেছে। তবে বিরোধীদের দাবি, যুদ্ধের ময়দান থেকে সেনা না সরিয়ে বা কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়ে সংঘর্ষ জারি রাখতেই প্রেসিডেন্ট এই পথ বেছে নিয়েছেন।
2
5
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দুই দেশই। আমেরিকার ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনও প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। ১ মে ছিল সেই সময়সীমার শেষ দিন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ট্রাম্প চিঠিতে জানিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে নতুন করে কোনও গুলি বিনিময় হয়নি, তাই সংঘাত আপাতত সমাপ্ত।
3
5
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে একটি কৌশল। যদি নতুন করে লড়াই শুরু হয়, তবে ট্রাম্প দাবি করতে পারবেন যে এটি একটি নতুন সংঘাত এবং ফের ৬০ দিনের সময়সীমা নতুন করে শুরু হবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে বহু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টই এই আইনকে অসাংবিধানিক বলে মনে করে আসছেন, কারণ এটি সেনাপ্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করে। ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের সাফ জানান, যুদ্ধবিরতি হওয়ায় তিনি এখন অতিরিক্ত সময় হাতে পেয়েছেন।
4
5
তবে ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্টের এই যুক্তি মানতে নারাজ। সেনেটর জিন শাহিন এক বিবৃতিতে কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে, ৬০ দিন পেরিয়ে গেলেও ট্রাম্পের কাছে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। বিরোধীদের দাবি, ইরানের তেল রপ্তানি আটকাতে যেভাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অবরোধ জারি রেখেছে, তাকে কোনওভাবেই ‘যুদ্ধবিরতি’ বলা যায় না। তাঁদের মতে, এটি আসলে যুদ্ধেরই একটি অংশ। যদিও সেনেট ও হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও প্রস্তাব পাস করানো বিরোধীদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
5
5
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার একটি প্রস্তাব পাঠানো হলেও ট্রাম্প তা তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, ১ মে-র সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরদিনও ট্রাম্পকে নতুন করে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফিং নিতে দেখা গেছে। সামনেই নভেম্বর মাসে আমেরিকায় নির্বাচন, আর জনমত সমীক্ষা বলছে দেশের সাধারণ মানুষ এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। সংবিধান অনুযায়ী কেবল কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে, কিন্তু স্বল্পমেয়াদী অপারেশনের দোহাই দিয়ে ট্রাম্প যেভাবে আইনি জটিলতা এড়িয়ে চলছেন, তা নিয়ে আমেরিকার অন্দরেই এখন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সংঘাত কি সত্যিই থামল নাকি এটি ঝড়ের আগের স্তব্ধতা, তা সময়ই বলবে।