আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর গোটা পরিবারই শেষ। সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন আলি খামেনেইর স্ত্রী মনসুরেখ খোজাস্তে বাঘেরজাদে। 

 

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি' জানিয়েছে, গত শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন মনসুরেখ খোজাস্তে বাঘেরজাদে। এদিন তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শনিবারেই ইরানের তেহরানে নিজের অফিসে বৈঠক চলাকালীন ইজরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এই হামলায় তাঁর মেয়ে, জামাই, নাতনি, পুত্রবধূ নিহত হয়েছেন। 

 

খামেনেই এবং মনসুরের ছয় সন্তান। চার ছেলে এবং দুই মেয়ে। মোস্তাফা, মোজতবা, মাসুদ, মেসাম, বোশরা এবং হোদা। বড় ছেলে মোস্তাফাও ধর্মগুরু। মোজতবাও পরিচিত মুখ। ইরান ও ইরাকের যুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এই হামলায় কোন মেয়ের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। 

 

রবিবার ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনেইর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত জানান। এরপর ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমও এই তথ্য নিশ্চিত জানায়। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'টার্গেট' ছিল খামেনেই। পরিবারের মধ্যে শুধুমাত্র বেঁচেছিলেন স্ত্রী। এদিন তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

 

গত শনিবার সকালে ইরানে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল৷ সঙ্গে যোগ দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ শনিবার সকালে তেহরানে প্রথম হামলা চালায় ইজরায়েল৷ ইরানের সুপ্রিম ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দপ্তরের কাছেই বিস্ফোরণ ঘটে৷ 

 

পরে ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সারা দেশে আক্রমণ চালিয়েছে ইজরায়েল৷ দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) প্রথম এই আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে৷ পরে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সামরিক অভিযানে কথা ঘোষণা করেন৷ 

 

শনিবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবি, দুবাই, কাতারের দোহা, সৌদি আরবের রিয়াদে একের এক পর হামলা চালাচ্ছে ইরান। শনিবার সন্ধ্যায় দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার পাশেই বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। যার জেরে নিমেষের মধ্যে বুর্জ খলিফা খালি করে দেওয়া হয়। পাম জুমেইরাহ-তেও ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ আছড়ে পড়ে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। 

 

শনিবার রাতে ইরানে হামলা করার পরিকল্পনা ছিল ইজরায়েলের। কিন্তু তড়িঘড়ি সাতসকালে কেন ইরানে হামলা করল ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র? অবশেষে ফাঁস হল সেই আসল কারণ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর গোপন তথ্য ইজরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ফাঁস করা হয়েছিল। 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে রাজধানী তেহরানে ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই সময় নিজের অফিসে কাজ করছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তিনিই গোপনে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। এই বৈঠকের তথ্য ছিল শুধুমাত্র তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে। 

 

জানা গেছে, তেহরানে সকাল ন'টায় সেই বৈঠক করার কথা ছিল আলি খামেনেইর। সেই তথ্য ইজরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে ফাঁস করে দিয়েছিলেন খামেনেইর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে একজন। যে হামলা রাতে হওয়ার কথা ছিল, খামেনেইর গোপন ডেরার খবর পেয়ে, তৎক্ষণাৎ তেহরানে হামলা শুরু করে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।