কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বহু প্রতীক্ষিত অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, ইউনিয়ন, রেল ও প্রতিরক্ষা কর্মীদের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে।
2
13
এই বৈঠকগুলির মূল উদ্দেশ্য হল কর্মচারীদের দাবি, বেতন কাঠামো এবং ভাতা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা।
3
13
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ১ কোটি মানুষ এই কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৫ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন বেতন কমিশনের মাধ্যমে বেসিক বেতন, মহার্ঘ ভাতা, মহার্ঘ ত্রাণ এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
4
13
ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স হল কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের বেতনের একটি অংশ, আর ডিয়ারনেস রিলিফ হল অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পেনশনের অতিরিক্ত অংশ। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের সুরক্ষা দিতেই এই ভাতা দেওয়া হয়।
5
13
ডিএ কর্মচারীদের মাসিক বেতনে যোগ হয়, আর ডিআর যুক্ত হয় পেনশনের সঙ্গে। উভয়ই সম্পূর্ণ করযোগ্য এবং শুধুমাত্র সরকারি বা পাবলিক সেক্টরের কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য।
6
13
প্রতি বছর দু'বার, অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সের ভিত্তিতে ডিএ ও ডিআর সংশোধন করা হয়। সাধারণত মার্চ ও অক্টোবর মাসে ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকর হয় যথাক্রমে জানুয়ারি ও জুলাই থেকে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক ডিএ ও ডিআর ৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার ঘোষণা করেছে, যা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
7
13
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৪৮ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৪.২০ শতাংশ। দুধ, শাকসবজি, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, সিএনজি, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়তে থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারের ওপর চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডিএ ও ডিআর কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
8
13
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল এমন একটি গুণক, যার সাহায্যে পুরনো বেসিক বেতনকে নতুন বেতন কাঠামোয় রূপান্তর করা হয়। এর সূত্র হল—বর্তমান বেসিক বেতন × ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর = নতুন বেসিক বেতন।
9
13
উদাহরণ হিসেবে, সপ্তম বেতন কমিশনে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হয়েছিল। ফলে ৬ষ্ঠ বেতন কমিশনের ৭,০০০ টাকার বেসিক বেতন বেড়ে ১৮,০০০ টাকা হয়েছিল।
10
13
বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশন এখনও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চূড়ান্ত করেনি। তবে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, শিল্প বিশেষজ্ঞ এবং একাধিক প্রতিবেদনের অনুমান, এবার ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.২৮ থেকে ৩.৮৩-এর মধ্যে হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের সুপারিশের ওপরই নির্ভর করবে।
11
13
উল্লেখযোগ্যভাবে, অষ্টম বেতন কমিশন ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রস্তাব এবং স্মারকলিপি গ্রহণ করছে। কমিশনটি ৩ নভেম্বর ২০২৫ সালে গঠিত হয় এবং ৫ মার্চ ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মতামত গ্রহণ শুরু হয়।
12
13
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কমিশন গঠনের প্রায় ১৮ মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে, সুপারিশ জমা পড়তে পারে।
13
13
তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ার পর তা কার্যকর হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। ফলে ২০২৭ সালে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা হলেও, নতুন বেতন কাঠামো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে ২০২৯ বা ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।