ইলন মাস্কের মহাকাশ সংস্থা স্পেস এক্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় আইপিও নিয়ে শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশ করেছে। ১১ জুন শেয়ারপ্রতি ১৩৫ ডলার দামে সংস্থাটি মোট ৫৫৫.৫৬ মিলিয়ন শেয়ার ইস্যু করে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এর ফলে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান সংস্থার মর্যাদা এনে দিয়েছে।
2
13
এই আইপিওর পর ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে সংস্থার এই ঐতিহাসিক তালিকাভুক্তির মধ্যেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
3
13
বিশ্লেষক সংস্থাগুলির মতে, স্পেসএক্সের বর্তমান মূল্যায়ন অত্যন্ত বেশি। ২০২৫ সালে সংস্থার সম্ভাব্য ১৮.৬৭ বিলিয়ন ডলার আয়ের তুলনায় প্রায় ৯৫ গুণ প্রাইস-টু-সেলস অনুপাতে শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও সংস্থার আয় বছরে প্রায় ৩৩ শতাংশ হারে বাড়ছে, তবুও এই মূল্যায়নকে অত্যধিক আশাবাদী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
4
13
আইপিওতে স্পেসএক্স তাদের মোট শেয়ারের ৫ শতাংশেরও কম বাজারে ছেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ার খুচরো বা রিটেল বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
5
13
ফলে সংস্থার ওপর ইলন মাস্কের নিয়ন্ত্রণ কার্যত অটুট থাকছে। আইপিওর পরেও তাঁর হাতে থাকবে প্রায় ৮২ শতাংশ ভোটাধিকার।
6
13
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রথম দিকে শেয়ারের দামে দ্রুত উত্থান দেখা যেতে পারে। কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ার জন্য শেয়ার বিক্রি শুরু করলে সেই উচ্ছ্বাস বেশিদিন স্থায়ী নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের দাম তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত মূল্যায়নের দিকে ফিরে আসতে পারে।
7
13
হিসাব অনুযায়ী, যদি স্পেসএক্স ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে ধারাবাহিকভাবে ৩০ শতাংশ হারে আয় বাড়াতে পারে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে কোম্পানির মূল্যায়ন বর্তমানের তুলনায় কমে ৫০ গুণ প্রাইস-টু-সেলস অনুপাতে নেমে আসে, তাহলে সংস্থার বাজারমূল্য প্রায় ১.৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান মূল্যায়নের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম।
8
13
এই পরিস্থিতিতে আজ যদি কেউ স্পেসএক্সের আইপিওতে ১০,০০০ ডলার বিনিয়োগ করেন, তাহলে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সেই বিনিয়োগের মূল্য ৫,০০০ ডলারের নিচে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
9
13
যদিও স্বল্পমেয়াদে দামে বড় উত্থান হতে পারে, তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বৃদ্ধির অনেকটাই ইতিমধ্যেই শেয়ারের দামে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
10
13
অন্যদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্সের মতো বহুল আলোচিত আইপিওর ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস শেয়ারের দামে তীব্র ওঠানামা দেখা যেতে পারে।
11
13
বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ সময় লোকসান সহ্য করার সামর্থ্য রাখলেও সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য সেই ঝুঁকি অনেক বেশি।
12
13
ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্ম বা এলআরএসের মাধ্যমে মার্কিন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ পেতে পারেন। তবে বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম, কর সংক্রান্ত বিষয় এবং ব্রোকারেজ চার্জ সম্পর্কে আগে থেকেই ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
13
13
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধুমাত্র আইপিও নিয়ে তৈরি হওয়া উন্মাদনার ওপর ভরসা না করে কোম্পানির মূল্যায়ন, ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিচার করেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।