আজকাল ওয়েবডেস্কঃ মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে বড় ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। জানিয়েছেন, ইরানের ওপর পূর্বপরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব একটি খসড়া চুক্তিতে 'অনুমোদন' দিয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী, সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে। বন্ধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'হরমুজ প্রণালী' ফের খুলে দেওয়া হবে। এমনকি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আগামী ৬০ দিনের জন্য নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি মোটেই পুরোপুরি মেনে নেয়নি ইরান। এমনই দাবি ইরানের সংবাদসংস্থা 'ফার্স'-এর। রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির খসড়া এখনও তেহরান চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেনি। তবে সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে সেই চুক্তিতে সম্মতি দেওয়ার একটি 'সম্ভাবনা' আছে।

 

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর বিশ্বাস ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, "আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সমাধান সূত্র বের করেছি। আমরা সই করা মাত্রই হরমুজ প্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। খুব শীঘ্রই, হয়তো এই সপ্তাহান্তেই ইউরোপে এই চুক্তি সই হতে পারে।"

 

পরে 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প লেখেন, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তাদের থেকে সবুজ সঙ্কেত পেয়েছি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ সন্ধ্যায় ইরানের ওপর নির্ধারিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

 

ট্রাম্প আরও দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই সমঝোতা স্বাক্ষরের মূল বিষয়গুলি আমেরিকা, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহী, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিশর—সব পক্ষই নীতিগতভাবে সমর্থন করেছে। তবে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে তাদের অবরোধ বজায় রাখবে। ইরানকে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানান ট্রাম্প।

 

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদসংস্থা 'ফার্স' জানিয়েছে, "আমেরিকার সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার কোনও খসড়াচুক্তি এখনও অনুমোদিত হয়নি।" অন্যদিকে, দেশের অন্য একটি সংবাদসংস্থা 'তাসনিম' ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, ট্রাম্প অতীতেও এমন অনেক দাবি করেছেন যার কোনও সত্যতা নেই। তাই ইরান সরকারিভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত ট্রাম্পের এই বার্তা গুরুত্বহীন।

 

তবে পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কিছুটা সুর নরম করে। তাদের তরফে জানানো হয়, ওয়াশিংটন আসলে তেহরানের দেওয়া 'প্রস্তাবিত খসড়া' মেনে নিয়েছে। যার ফলে ইরান এখন ওই চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করে দেখতে পারে।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই-ও জানিয়েছেন যে চুক্তি এখনও চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। তিনি বলেন, "খসড়ার বেশিরভাগ অংশই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু মার্কিনিরা বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছিল। ইরান নিজের 'রেড লাইন' বা মূল নীতিগুলোর প্রশ্নে কোনও আপস করবে না।"ইরান জানিয়েছে, তেহরানের বৈঠকে চুক্তিটি গৃহীত হলেও, সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের চূড়ান্ত সিলমোহরের জন্য অপেক্ষায়।