আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতিকে সম্পূর্ণ খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়ে আরও একবার চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বৃহস্পতিবার তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা আজ রাতেই অত্যন্ত বিধ্বংসী ও তীব্র হামলা চালাতে চলেছে। পরপর তিন রাত ধরে ইরানের ওপর আমেরিকার এই ধারাবাহিক আক্রমণ বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ ট্রাম্প রীতিমতো গর্জন করে লিখেছেন, আজ রাতে ইরানকে অত্যন্ত কঠিন আঘাত করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং সমস্ত প্রতিরক্ষা দেওয়াল ইতিমধ্যেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের আক্রমণ করার ক্ষমতাও এখন তলানিতে।

তবে কেবল সামরিক আক্রমণই নয়, ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথাও আজ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই মার্কিন বাহিনী ইরানের খাড়গ দ্বীপ (Kharg Island) সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামো কেন্দ্রগুলির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেবে। উল্লেখ্য, এই খাড়গ দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বা প্রধান চালিকাশক্তি, যেখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, ভেনেজুয়েলার তেল ও গ্যাসের বাজার যেভাবে আমেরিকা নিজেদের অধীনে এনে অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করছে, ঠিক একই কায়দায় এবার ইরানের তেল এবং গ্যাসের বাজারেরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার কব্জায় নেওয়া হবে।

আমেরিকার একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ইরান গুলি করে নামানোর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটেছে। মার্কিন ড্রোন ও যুদ্ধবিমানগুলি ইতিমধ্যেই ইরানের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত ঘাঁটিতে একের পর এক বোমাবর্ষণ করে চলেছে, যার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি এসেছে তেহরানের পক্ষ থেকেও। এই সাঁড়াশি আক্রমণের মাঝেই তেলের বাজার সম্পূর্ণ দখল করার বিষয়ে ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন মন্তব্য বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মেজাজ এবং আজ রাতের সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী হামলার হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কোন ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।