আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ইরানে একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা গেছে। তবে এই হামলার পেছনে নিজেদের কোনও  হাত নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরান প্রশাসনও এখন পর্যন্ত এই ঘটনার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কোনও  দেশকে দায়ী করেনি।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সূত্র ধরে জানিয়েছে, বুশেহর শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক সদর দপ্তরে মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। উল্লেখ্য, এই বুশেহর এলাকাতেই ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক কেন্দ্রটি অবস্থিত। বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান পরিস্থিতি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বুশেহর প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশের এলাকা, চোগাদক শহরের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং প্রদেশের দক্ষিণে অবস্থিত একটি মাছ ধরার ঘাট রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হল, এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনও  প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

বুশেহরের পাশাপাশি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনারক শহরেও আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটন এই হামলার পেছনে ছিল না।

এদিকে এই হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করার তীব্র হুমকি দিয়েছেন। এক সামরিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আকাশে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং ইরানের হুমকিগুলো মিটিয়ে দিতে প্রয়োজনে তৃতীয়বারের মতো আঘাত হানতে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছে। যদি তাদের আবারও ফিরতে হয়, তবে তারা আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফিরবেন।

আশ্চর্যের বিষয় হল, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর  কবর  সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই নতুন হামলার খবর সামনে এল। ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে শুক্রবার ভোরেই তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে দেশটির ওপর একযোগে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী হামলা চালিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চড়া মূল্য ওয়ানাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করে যে, ইরানের এই আগ্রাসন ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের সেই মার্কিন হামলায় মূলত ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বন্দরগুলোকে নিশানা করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলাটি এর আগের হামলার চেয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি শক্তিশালী ও বড় ছিল।

মঙ্গলবারের পর থেকেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরানের সাথে তাদের হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারকটি (MoU) এখন পুরোপুরি অকার্যকর। যুদ্ধবিরতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, তার মতে এই চুক্তি এখন শেষ এবং তিনি আর ইরানের সাথে কোনো আলোচনা বা চুক্তি বজায় রাখতে আগ্রহী নন, কারণ তাদের পেছনে সময় নষ্ট করা এখন সম্পূর্ণ অর্থহীন।