আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জন্য কেবল সাধারণ নির্বাচনই ছিল না। ফলাফলে দেখা গিয়েছে যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন সরকার গঠনের পথ তৈরি করেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গেই হয়েছিল জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। 

শুক্রবার বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছে যে, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পেশ করা জুলাই সনদ প্রস্তাব বিপুল ভোটের ব্যবধানে সমর্থন পেয়েছে। ৪ কোটি ৮০ লক্ষের বেশি ভোটদাতা জুলাই সনদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শতাংশের বিচারে প্রায় ৭০ শতাংশ। 'না' ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক এবং নির্বাচনী সংস্কারের যে প্রস্তাব সনদে রয়েছে, তা বাস্তবায়িত করার কথা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের।

দেশের প্রশাসনিক এবং নির্বাচনী সংস্কারের যে প্রস্তাব জুলাই সনদে রয়েছে, তা বাস্তবায়িত করার কথা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। 

জুলাই সনদ কী?
গণভোটে জুলাই ২০২৫ সালের জাতীয় সনদের প্রতি জনগণের সম্মতি চাওয়া হয়, যার লক্ষ্য দেশ পরিচালনার ধরণ সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করা। জুলাই সনদে রাষ্ট্র পুনর্গঠন সম্পর্কিত মোট ৮৪টি সংস্কার বিষয়ের রূপরেখা দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপরই দেশের প্রশাসনিক এবং নির্বাচনী সংস্কারের সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি খসড়া তৈরি করা হয়। 

একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ ২৭০ কার্যদিবসের মধ্যে এই সংস্কারগুলি কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সনদে কী প্রস্তাব করা হয়?
বাংলাদেশের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে মৌলিকভাবে পুনর্গঠন করে "কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি" রোধে নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ রোধ করা। ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টিতে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন, বাকি ৩৭টি আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

মেয়াদসীমা: দীর্ঘস্থায়ী স্বৈরাচারী শাসন রোধে প্রধানমন্ত্রীদের জন্য কঠোর মেয়াদসীমা বাস্তবায়ন।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: দলীয় জাতীয় ভোট ভাগের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ করে ১০০ আসন বিশিষ্ট একটি নতুন উচ্চকক্ষ তৈরি, যার লক্ষ্য আইনসভার ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা।

নির্বাহী ক্ষমতা হ্রাস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ কমাতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা শক্তিশালী করা।

বিচার বিভাগীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা: বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ব্যবস্থা।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ: বিরোধী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির প্রধান এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা।

'জুলাই যোদ্ধাদের' সুরক্ষা: ২০২৪ সালে "জুলাই যোদ্ধাদের" নামে পরিচিত বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা প্রদানের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

নারী প্রতিনিধিত্ব: এতে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশে এটা তৃতীয়বারের মতো সংস্কারের সনদ উপস্থাপন করা হয়েছে।