আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভাগ্য যে কোনও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। উদ্যোক্তা আরসিয়ান ইসমাইল এই প্রবাদটি সবচেয়ে ভাল অনুভব করছেন। ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে করা ৩০০ টাকার একটি সামান্য বিনিয়োগ বর্তমানে ৬৩৪ কোটি টাকার অপ্রত্যাশিত লাভে পরিণত হয়েছে।
এই উল্লেখযোগ্য লাভ ১৯৯৩ সালে তৈরি একটি ডিজিটাল সম্পদের ফলেষ তখন ইন্টারনেট প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা শুরুই হয়নি। ইসমাইল একটি ডোমেইন নাম রেজিস্টার করার জন্য ৩০০ টাকা খরচ করেছিলেন। প্রযুক্তির ভবিষ্যতের কোনও স্পষ্ট দূরদর্শিতার দ্বারা নয়, বরং ঝুঁকি নেওয়ার ইচ্ছাতেই এই ৩০০ টাকা খরচ করেছিলেন।
ওই দিন থেকে ৩৩ বছর পরে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে রূপান্তরকারী শিল্পগুলির মধ্যে একটি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। এর ফলে এই ছোট বিনিয়োগটি নাটকীয়ভাবে ফলপ্রসূ হয়েছে। জেনারেটিভ এআই প্ল্যাটফর্ম, মেশিন লার্নিং টুল এবং ভোক্তা-কেন্দ্রিক এআই পরিষেবার চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে AI.com ডোমেইনটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ডিজিটাল ঠিকানাগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে।
শিল্প পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, প্রধান প্রযুক্তিগত প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত ছোট, উল্লেখযোগ্য ডোমেইন নামগুলি প্রিমিয়াম ডিজিটাল সম্পদে পরিণত হয়েছে। যেমন প্রাইম রিয়েল এস্টেটগুলি তাদের অবস্থানের কারণে বেশি মূল্য অর্জন করে, তেমনি এই ডোমেইনগুলি তাদের ব্র্যান্ড মূল্য অর্জন করে। AI জগতে শক্তিশালী উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার জন্য কোম্পানিগুলি যখন প্রতিযোগিতা করছে, তখন সহজ এবং সরাসরি ওয়েব ঠিকানাগুলিকে কৌশলগত বিনিয়োগ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
১৯৯৩ সালে ইসমাইল AI.com ডোমেইনটি তৈরি করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাম্প্রতিক উত্থানের সময় এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই সেক্টরে আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডোমেইনটির মূল্য বৃদ্ধি পায়। অবশেষে একটি বড় চুক্তিতে স্বাক্ষরিত হয়। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে শুরু আলোচনা শুরু হয়েছিল। অবশেষ প্রায় ৬৩৪ কোটি টাকায় চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ব্যবসায়ী ক্রিস মার্সজালেক এই ডোমেইনটি কিনে নিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ডোমেইনটি ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে রাখা হবে না বরং এটিকে একটি ভোক্তা-কেন্দ্রিক AI প্ল্যাটফর্মে বিকশিত করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই চুক্তিটিই প্রমাণ করে যে, কীভাবে ডিজিটাল সম্পদ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অসাধারণ রিটার্ন তৈরি করতে পারে।
