আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হানায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। যা নিয়ে সরগরম বিশ্ব। মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। এর মাঝেই লারাজানির হুঙ্কার উত্তেজনায় ঘি ঢালল। লারিজানি বলেছেন, খামেনেই হত্যার প্রেক্ষিতে ট্রাম্পকে "একা ছাড়া হবে না।" এমনকী এর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে 'চরম মূল্য চোখাতে হবে' বলেও হুমকি দিয়েছেন আলি লারিজানি।
এক্স-এ পোস্টে খামেনেই-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লারিজানি বলেছেন, 'আমরা আমাদের নেতা এবং আমাদের জনগণের রক্তের প্রতিশোধ নিঃশর্তভাবে নেব। ট্রাম্পকে অবশ্যই এর মূল্য চোখাতে হবে।'
এদিকে ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের হুমকি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, তিনি লারিজানিকে চেনেন-ই না! সিবিএস নিউজকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "ইরান ইতিমধ্যেই পরাজিত হয়েছে। আমি জানি না তিনি কী সম্পর্কে কথা বলছেন, তিনি কে। আমি এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারব না।"
ট্রাম্প আবারও বলেছেন যে, ইরানের উপর মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকবে এবং প্রেসিডেন্ট তেহরানের কাছ থেকে "নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ" দাবি করেছেন।
একটা পৃথক এক্স-পোস্টে লারিজানি ইরানের প্রতিবেশীদের বলেছিলেন যে, 'আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে আপনাদের মাটি ব্যবহার করতে দেবেন না, নয়ত আমাদের আত্মরক্ষার জন্য আর কোনও উপায় থাকবে না। এই অঞ্চলে থাকা ঘাঁটি থেকে যখন শত্রুপক্ষ আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, তাহলে আমাদেরও জবাব দিতে হবে এবং আমরা সেই জবাব দিতে থাকব।'
ইরানের 'ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস' (আইআরজিসি)-এর প্রাক্তন কমান্ডার লারিজানি আরও দাবি করেছেন যে ইরান "কিছু আমেরিকান সৈন্যকে বন্দি" করেছে। রাষ্ট্রীয় টিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে, ইরান "ট্রাম্পকে একা ছাড়বে না।" তাঁর হুঁশিয়ারি, "আমরা তাঁকে (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) একা ছাড়ব না। তাঁর কাজের জন্য ওঁকে মূল্য দিতে হবে। সে আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে এবং আমাদের ১,০০০ এরও বেশি মানুষকে শহিদ করেছে। এটা মোটেই সহজ বিষয় নয়।" লারিজানি বলেন।
লারিজানির দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধ্বংস করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরানের নিরাপত্তা প্রদানের কথায়, "ভেনেজুয়েলাতে যা হয়েছিল, ইরানেও সেটাই করতে চায় আমেরিকা। কিন্তু আমেরিকার সমস্যা হল তারা পশ্চিম এশিয়া, বিশেষ করে ইরানকে বোঝে না। তারা মনে করেছিল, এটা ভেনেজুয়েলার মতো হবে, তারা আসবে, মারবে এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। তবে এখন তারা এখানে ফেঁসে গিয়েছে।"
