আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতিবেশী দেশগুলোতে নাগাড়ে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এবার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। নিজেদের জোরেই এবার পাল্টা হামলা হবে। মদ্য এশিয়ায় যুদ্ধের মাঝেই তেহরানকে বড়সড় হুঁশিয়ারি দিলেন সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলাকে "ব্ল্যাকমেইল বা জবরদস্তির একটি নগ্ন প্রচেষ্টা" হিসেবে অভিহিত করেছেন। রিয়াদ তেহরানকে অবিলম্বে তাদের কৌশল "পুনর্বিবেচনা" করার আহ্বান জানিয়েছে। বলেছে যে, সৌদি আরব ও অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর "সামর্থ্য ও সক্ষমতা" রয়েছে, যা তারা চাইলেই "প্রয়োগ করতে পারে।"
বৃহস্পতিবার সৌদি আরব জানিয়েছে যে, সৌদি রাজধানীতে আঞ্চলিক ও ইসলামিক দেশগুলোর পবিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে রিয়াদের উদ্দেশ্যে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল সৌদ বলেন, "আমার কাছে এটা স্পষ্ট ছিল যে, আজকের এই হামলা ঠিক বৈঠকের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চালানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল সেখানে উপস্থিত অতিথিদের ভীতসন্ত্রস্ত করা এবং এই বার্তা দেওয়া যে- ইরান তার কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হবে না।" তিনি আরও বলেন, "যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্ভুলতার যে মাত্রা দেখা গিয়েছে - তা আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব দেশেও পরিলক্ষিত হয়েছে- যা নির্দেশ করে যে- এটা একটা পূর্বপরিকল্পিত, সুচিন্তিত ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ।"
সৌদি বিদেশমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের এই হামলাগুলোতে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো মোটেও "ভীতসন্ত্রস্ত" নয়। তিনি বলেন, "আমরা কোনওভাবেই এটা বিশ্বাস করতে পারছি না যে, ইরান যখন এ ধরনের আচরণ করে, তখন তারা একটাকে বৈধ বলে দাবি করে থাকে।" তিনি আরও যোগ করেন, "তাদের প্রতি আমাদের মনে যেটুকু সামান্য আস্থা অবশিষ্ট ছিল, তা এখন পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।"
ইরানের প্রতি বার্তা
সৌদি বিদেশমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে ইরান যেসব যুক্তি দেখাচ্ছে, তা মোটেও 'বিশ্বাসযোগ্য নয়'। তিনি তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ইরান যদি তাদের হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তাদের পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়তে হবে।
আল সৌদ বলেন, "সৌদি আরব বা 'কিংডম'-এর পক্ষ থেকে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বা হবে না—আমি তা এখন বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই না; কারণ আমার মনে হয়, ইরানকে আগেভাগে এ ধরনের ইঙ্গিত দেওয়াটা কোনও বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ হবে না।"
সৌদির বিদেশমন্ত্রীর কথায়, "তবে আমার মনে হয় ইরানের জন্য এটা বোঝা অত্যন্ত জরুরি যে - কেবল সৌদি আরবই নয়, বরং তাদের যেসব অংশীদার হামলার শিকার হয়েছে এবং এর বাইরেও অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর - অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সামর্থ্য ও সক্ষমতা রয়েছে; তারা চাইলে যেকোনও মুহূর্তে সেই সক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।" আল সৌদ বলেন, "যে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া হচ্ছে, তা অসীম বা অনন্তকাল ধরে চলতে পারে না। তাদের হাতে কি এক দিন, দুই দিন - নাকি এক সপ্তাহ সময় আছে? আমি আগাম এমন কোনও ইঙ্গিত দিতে চাই না... আমি আশা করব, আজকের বৈঠকের বার্তা তারা অনুধাবন করবে, দ্রুত তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালানো বন্ধ করবে। তবে তাদের মধ্যে সেই প্রজ্ঞা রয়েছে কি না - সে বিষয়ে আমি সন্দিহান।"
