আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'আমাদের কাছে বড় চমক আছে'! কিন্তু তার আগেই প্রাণ হারালেন নাইনি। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের মেঘ। যুদ্ধে এ বার প্রাণ হারালেন ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)-র মুখপাত্র আলি মহম্মদ নাইনি। শুক্রবার সে দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম এই খবর জানিয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নাইনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি তেহরানের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে গোটা পশ্চিম এশিয়া।

আইআরজিসি-র নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার ভোরে ‘আমেরিকান-জায়নবাদী’ শক্তির হামলায় নাইনি 'শহিদ' হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে নাইনিকে নিয়ে মোট চার জন শীর্ষ সারির প্রশাসনিক ও সামরিক কর্তাকে হারাল ইরান। এর আগে ইজরায়েলি হানায় মৃত্যু হয়েছিল আলি লারিজানি, গোলামরেজা সোলেমানি এবং ইসমাইল খাতিবের। অর্থাৎ, পরিকল্পিত ভাবে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে শেষ করার কৌশল নিয়েছে ইরান, এমনটাই মনে করছেন কূটনীতিবিদদের একাংশ।

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও আমেরিকা ও ইজরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন নাইনি। সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’ তাঁকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, যুদ্ধের আবহেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বিন্দুমাত্র কমেনি। নাইনি বলেছিলেন, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প দশে দশ পাওয়ার যোগ্য। যুদ্ধের মধ্যেও নিরন্তর উৎপাদন চলছে, তাই মজুত ভাণ্ডার নিয়ে কোনও দুশ্চিন্তা নেই। শত্রুপক্ষের জন্য বড় চমক অপেক্ষা করছে।” কিন্তু সেই ‘চমক’ দেওয়ার আগেই হামলায় প্রাণ হারালেন মুখপাত্র।

এদিকে, হামলার দায় ইজরায়েল স্বীকার না করলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এ সাফ জানিয়েছেন, ওই হামলা ইজরায়েলই চালিয়েছে। একইসঙ্গে ট্রাম্পের আশ্বাস, ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে আর হামলা চালানো হবে না। এর পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লিখেছেন, ইরান যদি কাতারের শক্তি পরিকাঠামোয় আঘাত হানে, তবে আমেরিকা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ওই গ্যাসক্ষেত্রটিকে ‘পুরোপুরি উড়িয়ে দেবে’।

অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবারই আরও ‘চমক’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিবকে হত্যা করার পর কাৎজ স্পষ্ট করে দেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে ধ্বংস করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। এর মাত্র দু’দিন আগেই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্তা আলি লারিজানি এবং বাসিজ বাহিনীর প্রধান জেনারেল গোলামরেজা সোলেমানিকে হত্যা করেছিল ইজরায়েল। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ও সেনাকর্তার মৃত্যুতে তেহরান এখন রীতিমতো কোণঠাসা।