আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথমবার। দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক। কিন্তু মুখোমুখি প্রতিনিধিদল বসেনি। ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েও গিয়েছিল। কিন্তু শেষমুহূর্তে ভেস্তে যায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে টানা ২১ ঘণ্টা বৈঠক চলে। বৈঠকের জন্য পাশাপাশি তিনটি রুম ছিল। একটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। আরেকটিতে ইরানের প্রতিনিধিদল। মাঝের ঘরটিতে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের দল।
ইরানের প্রতিনিধিদলের তরফে এক কর্তা জানিয়েছেন, টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠকে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। শেষমুহূর্তেই কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে মতভেদের কারণে চুক্তি ভেস্তে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে ইরানের সঙ্গে দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর চারদিন পর ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক হয়।
পাকিস্তানে শান্তি বৈঠকে ইরানের ৭০ জনের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। উপস্থিত ছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রতিনিধি দলে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার।
সূত্রের খবর, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বে চলা এই আলোচনায় ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বার্তার জন্য প্রতিনিধিদের বারবার মূল কক্ষের বাইরে আসতে হয়েছে। এও জানা গেছে, দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকে ভ্যান্সের সঙ্গে ট্রাম্পের ১২ বার ফোনে কথোপকথন হয়েছে।
ইরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, দুই পক্ষই চুক্তি অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে শেষ মুহূর্তে অচলাবস্থা তৈরি হয়। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যেই দফায় দফায় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং চিৎকার শোনা যায়।
উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার কয়েক দফায় ‘চা-বিরতি’ ডাকেন। দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন করেন।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই মার্কিন প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে আরাঘচি বলেন, 'আবারও কীভাবে তোমাদের বিশ্বাস করব?' এই প্রসঙ্গেই অতীতে আলোচনার মধ্যেই মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। এই আবহেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
















