ভারতের কৃষি, জলসম্পদ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বর্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০২৬ সালের সিজন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী বছরের বর্ষা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ।
2
11
এই সম্ভাবনা প্রায় চার গুণ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো পরিস্থিতির কারণে এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
3
11
এল নিনো হল একটি আবহাওয়াগত ঘটনা, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এর প্রভাব বিশ্বজুড়েই পড়ে, তবে ভারতের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
4
11
এল নিনো সাধারণত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে দেশে বৃষ্টিপাত কম হয়। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, শক্তিশালী এল নিনোর বছরে ভারত খরার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।
5
11
চলতি বছরের শুরুতে আবহাওয়াবিদরা যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তার তুলনায় পরিস্থিতি এখন আরও উদ্বেগজনক। এপ্রিল মাসে যে ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল, বর্তমানে তার চেয়েও খারাপ সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে।
6
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাব বাড়লেও ভারত মহাসাগরে এমন কোনও ইতিবাচক আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যা এই নেতিবাচক প্রভাবকে কিছুটা হলেও সামাল দিতে পারে। ফলে বর্ষা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
7
11
যদি এই পূর্বাভাস বাস্তবে পরিণত হয়, তবে ২০২৬ সাল ২০১৫ সালের পর ভারতের সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষার বছর হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষিক্ষেত্রে।
8
11
দেশের বিশাল অংশ এখনও বৃষ্টিনির্ভর কৃষির উপর নির্ভরশীল। ধান, ডাল, তৈলবীজ এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।
9
11
শুধু কৃষিই নয়, জলাধার, নদী এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তরেও প্রভাব পড়তে পারে। অনেক রাজ্যে পানীয় জলের সংকট দেখা দিতে পারে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে। শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
10
11
তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এটি এখনও একটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস। আগামী কয়েক মাসে সমুদ্রের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে চিত্র কিছুটা বদলাতেও পারে। তবুও বর্তমান তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারতকে একটি দুর্বল বর্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে হতে পারে।
11
11
সামগ্রিকভাবে, এল নিনোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং অনুকূল আবহাওয়াগত উপাদানের অনুপস্থিতি ২০২৬ সালের বর্ষাকে ঘিরে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। কৃষক থেকে নীতিনির্ধারক—সবাই এখন নজর রাখছেন আকাশের দিকে, কারণ আগামী বর্ষার চরিত্রই নির্ধারণ করতে পারে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।