আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত একটি মার্কিন সেনাঘাঁটির দিকে ইরানের দু’টি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, এবং কৌশলগত ক্ষমতার দিকে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নানা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্যটি হয়তো প্রতিহত করা হয়েছে। কিন্তু ইরানে এই প্রচেষ্টা যুদ্ধের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। 

দিয়েগো গার্সিয়া ইরান থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তেহরান এতদিন প্রকাশ্যে দাবি করে এসেছে যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ। গত মাসেও সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছিলেন, দু’হাজার কিলোমিটার দূরে আঘাতে সক্ষম তাঁদের ক্ষেপণাস্ত্র। এর বেশি শক্তি বৃদ্ধি ইরান করেনি। কিন্তু ইরান যদি সত্যিই প্রকাশ্যে ঘোষিত এই সীমার দ্বিগুণ পাল্লার হামলা চালানোর চেষ্টা করে থাকে, তবে এর অর্থ হল ইরানের এমন অঘোষিত ক্ষমতা রয়েছে যা সম্পর্কে বিশ্ব অবগত নয়।

দিয়েগো গার্সিয়াও কোনও ছোট ঘাঁটি নয়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের জন্য একটি অত্যন্ত মূল্যবান কেন্দ্র। এই ঘাঁটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রসদ সরবরাহ ও আক্রমণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারী বোমারু বিমান এবং নজরদারি বিমানগুলোর ঘাঁটি। দিয়েগো গার্সিয়াকে আঘাত হানার চেষ্টা করে ইরান সংঘাতের ক্ষেত্র পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সরিয়ে এনেছে। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে আমেরিকার কোনও নিরাপদ আশ্রয়স্থলই খুব দূরে নয়। এটি আমেরিকা এবং ব্রিটেনের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে, কারণ তাদের ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষিণে সরিয়ে নিতে হবে। হামলা সফল বা ব্যর্থ হওয়ার চেয়েও দিয়েগো গার্সিয়া যে ইরানের আক্রমণের সীমার মধ্যেই রয়েছে, তা দেখানো ইরানের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

ইরান হয়তো সত্যিকারের ‘ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ (আইআরবিএম)-এর কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছিল, যা সম্ভবত ভারত মহাসাগরের আরও গভীরে এবং এমনকি দক্ষিণ ইউরোপেও পৌঁছতে সক্ষম। এটি তেহরানকে তার শত্রুদের কাছে প্রকৃত হামলার ক্ষমতা সম্পর্কে অন্ধকারে রেখে সুবিধা আদায়ে সাহায্য করে। শত্রুর ক্ষমতা সম্পর্কে অস্পষ্টতা আমেরিকা এবং ব্রিটেনের পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বৃদ্ধির যে কোনও সম্ভাবনা উপসাগরীয় দেশগুলি এবং ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করবে।

জানা গিয়েছে, ইরানের হামলা প্রতিহত করতে আমেরিকা একটি এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করেছে, যদিও এর ফলাফল অস্পষ্ট। এসএম-৩ যদি ঠিকঠাক কাজ করেও থাকে, তবুও আমেরিকাকে অত্যাধুনিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহারে বাধ্য করতে পারা ইরানের নৈতিক জয়। এসএম-৩-র ব্যর্থতা প্রমাণ করবে যে, পুরনো ব্যালিস্টিক প্ল্যাটফর্মগুলিও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে।