আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে রবিবার জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম Islamic Republic of Iran Broadcasting (আইআরআইবি)। “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদত বরণ করেছেন,”—এই ঘোষণা ঘিরে দেশ-বিদেশে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

খবর অনুযায়ী, ৮৬ বছর বয়সি খামেনেই তেহরানে তাঁর কার্যালয়ে হামলার জেরে প্রাণ হারান। ইজরায়েলের চ্যানেল ১২ দাবি করেছে, তেহরানের কমপাউন্ড থেকে দেহ উদ্ধারের পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে তাঁর দেহের ছবি দেখানো হয়। এই ঘটনার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে খামেনেইয়ের একাধিক পুরনো পোস্ট, যেখানে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর লেখা লেখা Glimpses of World History এবং ইংরেজ সাহিত্যিক জেন অস্টেন-এর উপন্যাস Pride and Prejudice–এর উল্লেখ করেছিলেন।

২০১৩ সালের ৬ অগস্ট এক পোস্টে খামেনেই লেখেন, নেহরুর Glimpses of World History পড়ার আগে তিনি জানতেন না, উপনিবেশ-পূর্ব ভারতে এত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছিল। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি লেখেন, নেহরু উল্লেখ করেছিলেন যে ব্রিটিশরা ভারতীয় শিল্পের বিকাশ রুখে দিয়েছিল। ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বরের আরেক পোস্টে খামেনেই দাবি করেন, আফ্রিকার বহু সভ্যতা নিজেদের সক্ষমতাকে অবহেলা ও উপনিবেশবাদীদের ‘সফট ওয়ার’-এর ফলে ধ্বংস হয়েছে—এ প্রসঙ্গেও তিনি নেহরুর স্মৃতিকথার উল্লেখ করেন।

&t=21s

একটি পুরনো ভিডিওতেও দেখা যায়, খামেনেই তরুণদের উদ্দেশ্যে বলছেন—“নেহরুর Glimpses of World History পড়ুন। বইটি ব্রিটিশ আগ্রাসনের প্রক্রিয়া ও ভারতে তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে।” শুধু ইতিহাস বা রাজনৈতিক সাহিত্য নয়, কথাসাহিত্যেও তাঁর আগ্রহ ছিল। ২০১৬ সালের ১৯ জুলাইয়ের এক পোস্টে তিনি জানান, তিনি জেন অস্টেন-এর বইয়ের ইংরেজি সারাংশ পড়েছেন, যার মধ্যে Pride and Prejudiceও রয়েছে। উপন্যাসটির কাহিনি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণও করেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এক পোস্টে খামেনেই লেখেন, তিনি বহু উপন্যাস ও কবিতা পড়েছেন। রুশ সাহিত্যিক মিখাইল শোলোকভ ও তলস্তয়ের কাজ তাঁর “আকর্ষণীয়” লেগেছিল বলেও জানান।

শিক্ষাজীবনে তিনি প্রতিবেশী ইরাকে ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। পরে ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেইনীর  অধীনে প্রশিক্ষণ নিলেও অসুস্থ পিতার দেখভালের জন্য তা মাঝপথে ছাড়তে হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি স্বীকার করেছিলেন, এ কারণেই সর্বোচ্চ ধর্মীয় ডিগ্রি অর্জন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। মার্কিন দৈনিক The Washington Post তাদের শোক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছে, খামেনেই আরবি ভাষায় দক্ষ ছিলেন এবং বহু আরবি বই ফারসিতে অনুবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে মিশরীয় ইসলামপন্থী চিন্তাবিদ সাইয়িদ কুতব-এর লেখাও ছিল।

রাজনৈতিক জীবনে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত খামেনেইয়ের এই সাহিত্যপ্রীতি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশের পর। আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসানের পাশাপাশি, তাঁর পাঠাভ্যাস ও বৌদ্ধিক আগ্রহ নিয়েও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তর আলোচনা চলছে।