আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দর অবরোধ করার হুমকি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরেই তেহরানের ওপর চাপ তৈরির নতুন পদক্ষেপ হিসেবে এমন ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে এই অবরোধ শুরু করবে তারা।
অবরোধ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই পাল্ট হুমকি দিল ইরান। এবার ইরানের হুঁশিয়ারি, দেশের কোনও বন্দর যদি হুমকির মুখে পড়ে, তবে পারস্য উপসাগর কিংবা ওমান সাগরের কোনও বন্দরই আর নিরাপদ থাকবে না।
ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড (আইআরজিসি) এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের এক মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সব বন্দরকে নিরাপদ রাখতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের সমস্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে ‘জলপথ অবরোধ’ শুরু করছে মার্কিন নৌবাহিনী। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী তাদের দখলেই রয়েছে। কোনও বিদেশি যুদ্ধজাহাজ সেখানে ঢোকার চেষ্টা করলে ‘কড়া জবাব’ দেওয়া হবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, তেহরান সমঝোতা করতে চাইলেও আমেরিকা ইচ্ছা করে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে আটকাতে এবং হামাস-হিজবুল্লাহর মতো সংগঠনকে মদত দেওয়া বন্ধ করতে ওয়াশিংটন বদ্ধপরিকর। কিন্তু এই সব শর্ত মানতে রাজি হয়নি ইরান।
শনিবার টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ। রবিবার ভোররাতে জানিয়ে দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সাংবাদিকদের জানান, 'খুবই খারাপ খবর। ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়নি। শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। আমরা কোনও চুক্তি না করেই ফিরে যাচ্ছি।'
ব্যর্থ বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য, 'খারাপ খবর হল, আমাদের মধ্যে কোনও চুক্তি হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও ইরানের জন্য এটা আরও খারাপ খবর। কোনও চুক্তি না করেই আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছি। আমরা স্পষ্টভাবে আমাদের সীমারেখা উল্লেখ করেছি, কোন বিষয়ে আমরা সমঝোতা করতে পারি, কোন বিষয়ে পারি না। কিন্তু ইরান আমাদের শর্তগুলো মেনে নেয়নি।'
ইরান কোন শর্ত মেনে নেয়নি? এই প্রশ্নের উত্তরে ভ্যান্স জানিয়েছেন, 'আমি সর্বসমক্ষে সবকিছু জানাতে চাই না, দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আমরা প্রতিশ্রুতি চেয়েছিলাম, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, এমন কোনও পন্থা অবলম্বন করবে না, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করবে। এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল যা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এখনও কোনও প্রতিশ্রুতি পাইনি। আশা করছি ভবিষ্যতে পাব।'















