আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মধ্য এশিয়ার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে বড় কূটনৈতিক মোড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও আলোচনায় কারা অংশ নিচ্ছেন, তা প্রকাশ করেননি ট্রাম্প।


এই ঘোষণার পরই সামনে এসেছে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত, যা নাকি ইরানের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরান একাধিক দাবি জানিয়েছে, যা মেনে নেওয়া সহজ হবে না বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


ইরানের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে আর কখনও ইরানের উপর সামরিক হামলা চালাবে না, এমন নিশ্চয়তা। পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তুলেছে তেহরান।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবির মধ্যে রয়েছে স্ট্রেইট অব হরমুজের উপর ভবিষ্যতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। এই জলপথ আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই দাবি মেনে নেওয়া হলে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।


তবে শুধু দাবি নয়, কিছু ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে ইরান। রিপোর্ট অনুযায়ী, তারা পাঁচ বছরের জন্য ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি স্থগিত রাখতে রাজি হতে পারে। পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানো এবং ৬০ শতাংশ উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনায় বসার কথাও বলা হয়েছে।


এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে তাদের সেন্ট্রিফিউজ পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে অর্থসাহায্য বন্ধ করার বিষয়েও আলোচনা করতে প্রস্তুত তেহরান।


এর আগে, ১২ মার্চ ইরানের প্রেসিডেন্ট  স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে তিনটি শর্ত মানতে হবে—ইসলামিক রিপাবলিকের বৈধ অধিকার স্বীকৃতি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে আর আক্রমণ না করার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা।


অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইতিমধ্যেই ইরানের সঙ্গে ১৫ দফা সমঝোতার একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে এবং সেই কারণেই সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

 


তবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে কঠোর শর্ত—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে মধ্য এশিয়ার ভবিষ্যৎ। আগামী কয়েকদিনের আলোচনা নির্ধারণ করবে, এই সংঘাত শান্তির পথে এগোবে, নাকি আবারও বড়সড় সংঘর্ষের দিকে যাবে।