আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে দেশের ৪৪০ কেজি পারমাণবিক মজুত এবং তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
সাক্ষাৎকারে আরাঘচিকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—ইরানের এই বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান এখন কোথায় রাখা আছে এবং কে তা নিয়ন্ত্রণ করছে? জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই মজুত সম্পূর্ণরূপে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। অর্থাৎ, কোনও বিদেশি শক্তি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই। তিনি দাবি করেন, এই উপাদানগুলি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষিত এবং দেশের পারমাণবিক নীতির আওতায় তা ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।
তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে কোনও স্থানের নাম উল্লেখ করেননি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে জানান তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সাধারণত তাদের পারমাণবিক উপাদান একাধিক গোপন ও সুরক্ষিত স্থানে ছড়িয়ে রাখে, যাতে কোনও সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি কমানো যায়।
এই ৪৪০ কেজি পারমাণবিক মজুতের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পরিমাণ উপাদান থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরি করা সম্ভব—যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে একটি বড় ধাপ। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে এসেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন বা চিকিৎসা গবেষণার জন্য।
আরাঘচি আরও জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে পারমাণবিক আলোচনা চলছিল, তা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র কারণে হঠাৎ করেই থমকে যায়। এই সামরিক অভিযানের ফলে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বেড়েছে, যা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে কঠিন করে তুলেছে।
তিনি বলেন, ইরান কখনও আলোচনার পথ থেকে সরে আসেনি, কিন্তু চাপ সৃষ্টি করে বা সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কোনও স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং পারস্পরিক সম্মান ও সমঝোতার ভিত্তিতেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে তাদের পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের কারণ। কারণ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়লে তা বিশ্বের নিরাপত্তাকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানের ৪৪০ কেজি পারমাণবিক মজুত এখন কোথায় রয়েছে সেটি এই প্রশ্নের পুরোপুরি স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। তবে আরাঘচির বক্তব্য থেকে এটুকু পরিষ্কার, ইরান এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বদ্ধপরিকর এবং আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও তারা তাদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ।
