আজকাল ওয়েবডেস্ক:  চীনের দীর্ঘ-পরিসরের বিমান প্রতিরক্ষা সিস্টেম HQ-9B নিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এটি গত এক বছরে দুটি বড় সংঘর্ষে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি বলে খবর এসেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন–ইজরায়েলীয় অভিযান চলাকালীন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে ফেলে রাখা চীনা সিস্টেমেরও লক্ষ্যবস্তুর উপর হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার খবর এসেছে, যা তার যুদ্ধ দক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। 


ইরানে গত সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপিত HQ-9B সিস্টেমটি কয়েকটি স্ট্রাটেজিক অবস্থানে মোতায়েন থাকার পরেও বিমান হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সংবাদ এসেছে। মার্কিন ও ইজরায়েলীয় হামলায় লক্ষাধিক কিলোমিটারের মধ্যে বিস্তৃত অঞ্চলে বিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের মুখে ইরানের প্রতিরক্ষা স্তর চূর্ণবিচূর্ণ হয়, এবং এতে HQ-9B-সহ বিভিন্ন স্তরের সিস্টেম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করা হয়েছে। 


এটি প্রথমবার নয়, যখন এই চীনা তৈরি প্রতিরক্ষা সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। ২০২৫ সালে ভারতের অপারেশন সিন্দুর—যেখানে ভারতীয় বিমান বাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হামলায় বহু লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানেছিল—সেসময় পাকিস্তানও HQ-9B মতো চীনা সিস্টেম ব্যবহার করেছিল। 


HQ-9B-র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হলো চীনের সংস্থা যা এই সিস্টেমকে রাশিয়ার S-300PMU এবং আমেরিকার Patriot PAC-2 সিস্টেমের মতো করে তৈরি করেছে। এটি ২৬০ কিমি পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে এবং এক সঙ্গে একাধিক লক্ষ্য নিশানা করতে পারে বলে দাবি করা হয়। 


ইরানও গত বছর নিজের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি শক্তিশালী করতে এই সিস্টেম কিনে নিয়েছিল বলে মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, যদিও চীন সরকার সরাসরি সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও চীনের মধ্যে তেলের বিনিময়ে অস্ত্র চুক্তির আওতায় HQ-9B সিস্টেমটি ইরানে পৌঁছেছিল। 


বিশ্লেষকদের মন্তব্য অনুযায়ী, HQ-9B-র এই ব্যর্থতা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং আধুনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের অভাবও নির্দেশ করতে পারে। কিছু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ উত্থাপন করেছেন দাবি করে যে এর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অতিরিক্ত স্টিল্থ প্রযুক্তি শনাক্তের দক্ষতা যথেষ্ট নয়। 

 


এই সিরিজ ব্যর্থতা শুধুমাত্র ইরান বা পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার দুর্বলতার প্রতিফলন নয়, বরং বুদ্ধিমান ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গঠন করার প্রতি আন্তর্জাতিক সামরিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এর ফলে চিনের প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতিও কিছুটা প্রশ্নের মুখে পড়েছে, কারণ বড় ও বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সিস্টেমের সফলতা অনেক সময় তার বাজারযোগ্যতা নির্ধারণ করে। 
সামগ্রিকভাবে HQ-9B-এর এই সমস্যাগুলি জানা যাচ্ছে যে আধুনিক আকাশ যুদ্ধ ক্ষেত্রের বাস্তবে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য সিস্টেমটি এখনও প্রমাণিত হয়নি, এবং এর কার্যকারিতা ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।