আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিকিৎসকের চেম্বারে এসে রোগীরা কত কিছুই না দাবি করেন, কিন্তু ডেন্টিস্টদের বা দাঁতের ডাক্তারদের অভিজ্ঞতা বোধহয় সবচেয়ে বিচিত্র। সম্প্রতি ব্রিটেনের দন্তচিকিৎসা খাতের কর্মীদের ওপর করা একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে রোগীদের মুখ থেকে উদ্ধার হওয়া এমন কিছু অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য জিনিসের তালিকা, যা শুনলে সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। মুখের ভেতরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে যে কী কী জমা হতে পারে, তারই এক চরম উদাহরণ এই ঘটনাগুলি।

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া এক ডেন্টাল নার্স জানান, এক রোগীর দাঁত পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি মাড়ির ভেতরে একটি ললিপপের ভাঙা কাঠি বা প্লাস্টিকের টুকরো আটকে থাকতে দেখেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছিল যখন তারা পরীক্ষা আরও গভীর করেন। দেখা যায়, ওই টুকরোটির চারপাশে রীতিমতো চার-পাঁচটি চকোলেট ও ক্যান্ডির রঙিন প্লাস্টিকের খোসা বা ‘সুইট র‍্যাপার’ আটকে রয়েছে। রোগী নিজেই জানতেন না যে কত মাস বা বছর ধরে ওই আবর্জনা তিনি মুখে বয়ে বেড়াচ্ছেন।

আরেকটি ঘটনা তো আরও অবিশ্বাস্য। এক রোগীর মাড়ি ও দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে চিকিৎসকরা দেখেন, সেখানে একটি টমেটোর বীজ আটকে রয়েছে। শুধু আটকে থাকাই নয়, মুখের ভেতরের আর্দ্রতা ও উষ্ণতাকে কাজে লাগিয়ে সেই বীজ থেকে রীতিমতো ছোট একটি চারাগাছ গজিয়ে উঠতে শুরু করেছিল! চিকিৎসকদের মতে, মুখের ভেতরের টার্টার বা পাথরের মতো শক্ত আস্তরণ অনেক সময় বীজের জন্য মাটির মতো কাজ করে, যার ফলে এমন অদ্ভুত কাণ্ড ঘটে।

তালিকায় এখানেই শেষ নয়। অপর এক দন্তচিকিৎসক জানান, এক রোগীর দাঁত তোলার সময় তিনি মাড়ির গভীর থেকে একটি গোটা ‘আচারের টুকরো’ (স্লাইস অফ ঘেরকিন) উদ্ধার করেন। ফাস্টফুড বা বার্গার খাওয়ার সময় ওই আচারের টুকরোটি কোনওভাবে দাঁতের ফাঁকে এমনভাবে সেঁধিয়ে গিয়েছিল যে, রোগী ব্রাশ করার সময়ও তা টের পাননি। দিনের পর দিন সেটি মুখের ভেতরেই পচছিল।

এই বিচিত্র অভিজ্ঞতাগুলি সামনে এনে চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষকে মুখের স্বাস্থ্যের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দিনে দুবার নিয়ম মেনে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা এবং নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে চেক-আপ করানো কতটা জরুরি। মুখের অবহেলা কেবল দাঁতের ক্ষতিই করে না, বরং মুখের ভেতরকে আক্ষরিক অর্থেই আবর্জনার স্তূপ বা পরজীবী উদ্ভিদের নার্সারিতে পরিণত করতে পারে।