আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ। এ বার সরাসরি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই। 

স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, হরমুজ প্রণালীতে মোতায়েন মার্কিন রণতরীগুলি এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায়। আমেরিকা যদি এই জলপথে ‘দাদাগিরি’ করতে আসে, তবে তাদের একটি জাহাজও আর আস্ত ফিরবে না।

গত মাসেই আয়াতোল্লা খামেনেইর উপদেষ্টা পদে বসেছেন রেজাই। এক সময় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান ছিলেন। সম্প্রতি দেশটির সরকারি টেলিভিশনে সামরিক পোশাকে হাজির হয়ে তিনি বলেন, “ট্রাম্প কি এখন হরমুজ প্রণালীর পুলিশ হতে চাইছেন? আমেরিকার মতো বড় শক্তির সেনাবাহিনীর কাজ কি তবে এটাই?”

 তাঁর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ইতিমধেই মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর দিকে তাক করে রাখা হয়েছে। ইরান চাইলে নিমেষের মধ্যে সেগুলিকে সমুদ্রে পাঠিয়ে দিতে পারে।

দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের লড়াইয়ের পর আপাতত ওই অঞ্চলে দু’সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও থমথমে। এই আবহে রেজাইয়ের মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে। 

কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতার দাবি, আমেরিকা যদি এর পর ইরানে স্থলপথে হামলা চালায়, তবে তা তাদের জন্য ভালো ‘সুযোগ’। তাঁর কথায়, “আমরা হাজার হাজার আমেরিকানকে বন্দি করব। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকের বিনিময়ে ১০০ কোটি ডলার মুক্তিপণ নেব।”

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন এই সামরিক কর্তা। তাঁর মতে, আমেরিকা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে ভয় পেলেও ইরান যে কোনও বড় লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আগামী দিনে কোনও আলোচনা হলে শর্ত ইরানই দেবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

অন্যদিকে, আরও বড় চমক। বড় সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আর কখনও বন্ধ হবেনা হরমুজ৷ এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যালে একটি নতুন পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার’ সিদ্ধান্তে চীন ‘খুবই খুশি’। ট্রাম্পের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আর কখনও বন্ধ হবে না। সারা বিশ্বের পাশাপাশি চীনের স্বার্থেই তিনি এই পদক্ষেপ করেছেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বেজিং ইরানকে আর কোনও অস্ত্র দেবে না বলে তাঁকে কথা দিয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর এবং ট্রাম্পের দাবি এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে। এদিকে জানা গিয়েছে, তেহরানকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছে বেজিং। অন্য এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হদিস পেতে এবং সেগুলিকে নিশানা করতে চীনের স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে ইরান।

নিজের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিচ্ছি দেখে চীন খুব খুশি হয়েছে। আমি এটা ওদের জন্য এবং গোটা বিশ্বের জন্যই করছি। এই পরিস্থিতি আর কখনও তৈরি হবে না। ওরা ইরানকে অস্ত্র না দিতে রাজি হয়েছে।”