আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালী নিয়ে এখন বিশ্ব রাজনীতি তোলপাড়। ঠিক এই সময়েই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দানা বাঁধছে এক নতুন 'সমীকরণ'। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, পশ্চিম এশিয়ার পাশাপাশি আমেরিকা এবার ‘মালাক্কা প্রণালী’র ওপরেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে হয়েছে এই চুক্তি। ফলস্বরূপ ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারের বাড়তি সুযোগ পাবে মার্কিন যুদ্ধবিমান। কাগজে-কলমে একে ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা’ বলা হলেও, এর আসল লক্ষ্য যে মালাক্কা প্রণালীর ওপর কড়া নজরদারি চালানো, তা নিয়ে সন্দেহ নেই ওয়াকিবহাল মহলের। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করা এই জলপথটি বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর- এই তিন দেশ মিলে এই জলপথের দেখভাল করে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের এক বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। আমেরিকা যেভাবে এই অঞ্চলে সক্রিয় হচ্ছে, তাতে পরিষ্কার যে তারা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বিরাট বদল আনছে।
হরমুজ প্রণালী মূলত তেলের জন্য পরিচিত। তবুও মালাক্কা প্রণালীর ব্যাপ্তি অনেক বেশি। তেল ছাড়াও ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে কলকারখানার যন্ত্রাংশ- সবই এই পথ দিয়ে যায়। বিশেষ করে চিন তাদের জ্বালানি আমদানির জন্য এই রাস্তার ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে, একে বেজিংয়ের ‘দুর্বল পয়েন্ট’ বা ‘মালাক্কা ডিলেমা’ বলা হয়। আমেরিকা চায় এই কৌশলগত পয়েন্টটিকে নিজেদের কবজায় রাখতে, যাতে প্রয়োজনে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা যায়।
এই ডামাডোলে ভারতের গুরুত্বও অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। মালাক্কা প্রণালীর ঠিক মুখেই রয়েছে ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। এখান থেকেই গোটা অঞ্চলের জাহাজ চলাচলের ওপর নজর রাখা সম্ভব। ক্যাম্পবেল বে-তে ভারতের যে বিমানঘাঁটি রয়েছে, তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলপথে দিল্লির হাত শক্ত করেছে। চিনের প্রভাব কমাতে আমেরিকা ও ভারত যে এই অঞ্চলে একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠবে, সেই ইঙ্গিতও স্পষ্ট।
তবে পথ খুব একটা 'সহজ' নয়। ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো নিজেদের জলসীমায় বিদেশের খবরদারি খুব একটা পছন্দ করে না। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি এই জলপথের স্থিতিশীলতার ওপর দাঁড়িয়ে। বিশেষজ্ঞ মহলের অনুমান, এ বার মালাক্কা প্রণালীকে কেন্দ্র করে এশিয়ার সমুদ্র রাজনীতি এক নতুন মোড় নিতে চলেছে।















