আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য খারাপ খবর। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে এবার প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা করল ইতালি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে কী কারণে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করলেন, তার সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি জানাননি। ইরানের সঙ্গে ইজরায়েলের সংঘাতের আবহে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করতেই ইতালি এহেন পদক্ষেপ করেছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি।
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে ইতালির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির সময় ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ক এই চুক্তি হয়েছিল। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর চুক্তিটি নতুন করে শুরু হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তি স্থগিত করার পর থেকে ইতালি এখন থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আর কোনও সহযোগিতা করবে না। গতকাল সোমবার বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এবং উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি।
প্রসঙ্গত, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই প্রথম শান্তি বৈঠক ভেস্তে গেছে। দ্বিতীয়বার শান্তি বৈঠকে বসতে পারে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। আগামী বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদ বা জেনেভায় আবারও শান্তি বৈঠক হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
টানা ২১ ঘণ্টা বৈঠক। তারপরেও হল না সমঝোতা। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক ভেস্তে গেছে। রবিবার সকালেই ইসলামাবাদ ছেড়ে ওয়াশিংটনে পাড়ি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পাশাপাশি ইরানও জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য দাবিতে স্পষ্ট 'না' জানিয়েছে তারা।
দীর্ঘ বৈঠকে কী কী নিয়ে জটিলতা?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা অর্জন না করে। এবং ভবিষ্যতেও যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে। এ নিয়ে প্রতিশ্রুতিও যেন দেয়। কিন্তু ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে নিজেদের অধিকার হিসেবে তুলে ধরে এই বৈঠকে। এবং তা সীমিত করতে অনীহাও দেখায়। এই ইস্যুতেই আলোচনায় সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা তৈরি হয়।
আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীতে ইরান তার প্রভাব বজায় রাখতে চায়। আর অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল অবাধ থাকুক। ফলে সমঝোতা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যর্থ বৈঠকের পর কী ঘটতে চলেছে?
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, গতকাল ইসলামাবাদে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দু'টি পথ খোলা আছে। প্রথমত, দুই দেশের প্রতিনিধিদল সুর নরম করে আবারও বৈঠকে বসতে পারে। দুই দেশের তরফেই খানিকটা ছাড় দিতে হবে। এবার সমঝোতা করেই যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে পারে। দ্বিতীয়ত, সমঝোতা না হলে, আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে শীঘ্রই।
রবিবার ভোরবেলায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের জানালেন, 'খুবই খারাপ খবর। ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়নি। শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। আমরা কোনও চুক্তি না করেই ফিরে যাচ্ছি।'
ব্যর্থ বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য, 'খারাপ খবর হল, আমাদের মধ্যে কোনও চুক্তি হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও ইরানের জন্য এটা আরও খারাপ খবর। কোনও চুক্তি না করেই আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছি। আমরা স্পষ্টভাবে আমাদের সীমারেখা উল্লেখ করেছি, কোন বিষয়ে আমরা সমঝোতা করতে পারি, কোন বিষয়ে পারি না। কিন্তু ইরান আমাদের শর্তগুলো মেনে নেয়নি।'















