আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরু করার কথা ভাবছে আমেরিকা। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ জারি রাখার সিদ্ধান্তও এক প্রকার চূড়ান্ত। এই ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

মূলত ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে রবিবারের ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরেই এই কড়া অবস্থানের পথে হাঁটছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। টানা ২১ ঘণ্টার ওই বৈঠকে আমেরিকার পক্ষে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও জ্যারেড কুশনারের মতো প্রভাবশালীরা। কিন্তু তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের শর্ত মানতে রাজি না হওয়ায় কোনও সমাধান মেলেনি। ফলে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখন প্রশ্নের মুখে।

ফ্লোরিডার ডোরাল রিসর্টে বসে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধের পক্ষপাতী না হলেও ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা পরিকাঠামোয় আঘাত হানা আমেরিকার জন্য অত্যন্ত সহজ কাজ। আপাতত অবরোধ জারি রেখে ইরানকে চাপে রাখাই হোয়াইট হাউসের কৌশল। পাশাপাশি সংঘাত এড়াতে মিত্র দেশগুলোকে দিয়ে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ভাবছে ওয়াশিংটন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস সাফ জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের তোলাবাজি বন্ধ করাই আমাদের লক্ষ্য।” অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি রেজা আমিরি মোকাদ্দম অবশ্য দাবি করেছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে একটা দীর্ঘমেয়াদী কূটনীতির ভিত তৈরি হয়েছে।

যদিও ট্রাম্প নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-প্ল্যাটফর্মে ইরানের ওপর খড়্গহস্ত হয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রায় সব বিষয়ে মিল হলেও পরমাণু প্রশ্নেই সব ভেস্তে গিয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, “পুরো দুনিয়ায় জোর করে তোলাবাজি চলছে। যারা ইরানকে বেআইনিভাবে ‘টোল’ দিয়ে যাতায়াত করবে, সমুদ্রে তাদের কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হবে না।” 

মার্কিন নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালীতে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে হুঙ্কার দিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর দিকে কেউ গুলি ছুড়লে তাকে ‘নরকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে’।