আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরমাণু অস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে নারাজ ইরান। আর তার জেরেই এবার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নৌবাহিনী দিয়ে সম্পূর্ণ অবরোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক চলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরমাণু ইস্যুতে কোনও সমাধান মেলেনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা মোটের ওপর ভালো হলেও নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে একচুলও নড়তে রাজি হয়নি তেহরান।
এর পরেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মেজাজ হারিয়ে ট্রাম্প লেখেন, “বিশ্বের সেরা মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের জাহাজ ঢোকা এবং বেরোনো বন্ধ করে দেবে। কোনও ইরানি যদি আমাদের ওপর বা কোনও সাধারণ জাহাজের ওপর হামলা চালায়, তবে তাদের উড়িয়ে দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলো। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের মধ্যে আলোচনার টেবিলে উপস্থিত ছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রীও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়েন ভ্যান্স। তিনি সাফ জানান, আমেরিকা তাদের শেষ প্রস্তাব দিয়ে দিয়েছে, এখন সিদ্ধান্ত ইরানের।
ট্রাম্পের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখেনি ইরান। উল্টে ওই জলপথে মাইন বিছিয়ে রাখা হয়েছে বলে ভয় দেখানো হচ্ছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নৌবাহিনীর বেশির ভাগ শক্তিই ইতিমধ্যে গুঁড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা।
এদিকে গত শনিবার মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, মাইন সরানোর কাজ শুরু করতে তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ ওই প্রণালীতে ঢুকেছে। কিন্তু ইরান সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, তারা মার্কিন জাহাজ দুটিকে আটকে দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানি মিসাইল আর ড্রোন তাড়া করায় মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন রণতরী। পাল্টাপাল্টি এই হুমকিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এখন যুদ্ধের দামামা আরও চড়া হচ্ছে।















