আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের চেনা ছবি আমূল বদলে গিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে যারা প্রধান ভূমিকা নেয়, সেই আরব দেশগুলি এখন গভীর দুশ্চিন্তায়। বিশেষ করে সৌদি আরব। তারা মনে করছে, ইরানকে পুরোপুরি কোণঠাঁসা করার নীতি হিতে বিপরীত হতে পারে আমেরিকার জন্য৷
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রিয়াধ এখন তলে তলে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের আর্জি- 'অবরোধ' তুলে নিয়ে আমেরিকা যেন ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ফেরে। সৌদি আধিকারিকদের ভয়, ইরান যদি দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছায়, তবে তারা পাল্টা হিসেবে সমুদ্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোও বন্ধ করে দেবে। এতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।
আসলে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে 'পঙ্গু' করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের বন্দরগুলো বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা। এদিকে এর পাল্টা হিসেবে তেহরান যদি ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবেই বিপদ। এই প্রবেশপথই সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য এখন একমাত্র ভরসা।
গত এক মাসের যুদ্ধে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা চাইলে যেকোনও মুহূর্তে সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীগুলো অকেজো করে দিতে পারে। এতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য ও তেলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সৌদি আরব এতদিন মরুভূমির তলা দিয়ে পাইপলাইনে তেল পাঠিয়ে সমুদ্র মারফত ব্যবসা সচল রেখেছিল। ইরান এখন হুতিদের ওপর চাপ দিচ্ছে ওই পথটিও বন্ধ করে দিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা যুদ্ধের সময় হুতিরা যে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তাতে এটা স্পষ্ট যে তারা চাইলেই ওই পথ আটকে রাখার ক্ষমতা রাখে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, আমেরিকা যদি একই ভুল বারবার করে, তবে মাত্র একটি ইশারাতেই গোটা বিশ্বের তেলের কারবার থমকে যাবে। সোমবার ইরানের সেনার তরফেও একই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা এখন বন্ধ।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস বলছে তারা পরিস্থিতি সামলে নেবে এবং মিত্র দেশগুলি তাদের পাশেই আছে। কিন্তু রিয়াধ যেভাবে আলোচনার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে, তাতে স্পষ্ট যে আমেরিকার সব পরিকল্পনা ঠিকমতো কাজ করছে না।
সব মিলিয়ে, ক্রমাগত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। দিনের শেষে সব পক্ষই চাইছে, এই দড়ি টানাটানি বন্ধ হয়ে দ্রুত সমাধান হোক।
















