আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় প্রাণ হারালেন ইরানের প্রভাবশালী আধাসামরিক বাহিনী রেভোলিউশনারি গার্ডস-এর গোয়েন্দা প্রধান মজিদ খাদেমি। সোমবার ভোরে রাজধানী তেহরান ও তার আশেপাশে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন ও ইজরায়েলি ফৌজ। সেই আঘাতেই খাদেমির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার ভোরে 'মার্কিন-জায়নবাদী' শত্রুদের হামলায় 'শহিদ' হয়েছেন মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি। গত জুন মাসে ইজরায়েলি হানায় তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান মহম্মদ কাজেমি নিহত হওয়ার পর খাদেমি সেই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করছিলেন খাদেমি। তাঁকে সে দেশের ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে মনে করা হত।
উল্লেখ্য, ইরানের এই গোয়েন্দা সংস্থাটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি সরাসরি সে দেশের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে চলে।
সোমবারের এই হামলায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তেহরানের আজাদি স্কোয়ার ও শরিফ ইউনিভার্সিটির কাছে একের পর এক বিস্ফোরণে চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
এর পাল্টায় ইজরায়েল ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানও। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, অন্যদিকে নতুন এক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে।
গত এক মাসের যুদ্ধে কার্যত কোণঠাসা ইরান। সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই থেকে শুরু করে আলি লারিজানির মতো প্রভাবশালী নেতাদের হারিয়ে ইরান এখন চরম রাজনৈতিক ও সামরিক সঙ্কটে।
এর আগে ইজরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান ও বাসিজ কমান্ডার গোলামরেজা সোলেমানিও। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখন 'দুর্বিষহ'।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে ধোঁয়াশা ক্রমেই বাড়ছে। আমেরিকার সঙ্গে চলা এহেন প্রবল সংঘাতের মধ্যেই সোমবার তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিল, স্রেফ 'সাময়িক' যুদ্ধবিরতির জন্য তারা ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেবে না। সাফ কথা, আমেরিকার 'সদিচ্ছার' অভাব রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইরানি আধিকারিক সরাসরি ওয়াশিংটনকে তোপ দেগেছেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা 'স্থায়ী' শান্তিতে আগ্রহী নয়। তবে পাকিস্তান যে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তা স্বীকার করেছেন তিনি। তেহরান এখন সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে।















