আজকাল ওয়েবডেস্ক: চরম হুঁশিয়ারির পর পিছিয়ে আসা ‘ঐতিহাসিক জয়’। এমনটাই দাবি ইরানের৷ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণ থেকে পিছিয়ে আসায় এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় একে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নিজেদের ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরানের দাবি, তাদের দেওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবে 'নীতিগতভাবে' সায় দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের ঘোষণার পরই ইরানের ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ এক বিবৃতিতে জানায়, তেহরানের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটন তাদের হামলা স্থগিত রাখতে এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের দাবি, “ইরানের বিশাল জয়। অপরাধী আমেরিকাকে ১০ দফার পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করেছে।” তাদের দাবি অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় ইরানের ওপর হামলা না করার নিশ্চয়তা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া, সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে রাজি হয়েছে হোয়াইট হাউস।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমেরিকা গত এক মাস ধরেই যুদ্ধবিরতির জন্য ছটফট করছিল। কিন্তু নিজেদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরান বার বার সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। তাদের কথায়, আজ যুদ্ধের ৪০তম দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে তারা শত্রুকে ‘অনুতপ্ত ও হতাশ’ করতে সফল হয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতি মানেই যে লড়াই শেষ, এমনটা ভাবছে না তেহরান। তাদের হুঁশিয়ারি, এই বিরতি সাময়িক ও শর্তসাপেক্ষ। আলোচনার মাধ্যমে তাদের ১০ দফা দাবি পুরোপুরি না মানলে ফের যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তাদের সাফ কথা, প্রস্তাবের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি মেনে নেবে না।
ইরানের ১০ দফার প্রস্তাবে যা আছে-
ইরানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার কাছে পেশ করা ওই প্রধান দাবিগুলো হলো:
ইরানের ওপর ভবিষ্যতে কোনও হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি।
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নেওয়া।
প্রাথমিক স্তরের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল।
দ্বিতীয় স্তরের যাবতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে পাশ হওয়া সমস্ত প্রস্তাব বাতিল করা।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে থাকা সব প্রস্তাব বাতিল করা।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
পশ্চিম এশিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া।
লেবানন-সহ সব সীমান্তেই লড়াই বন্ধ করা।
তেহরান মনে করছে, এই যুদ্ধবিরতি আসলে এক ‘কৌশলগত বিরতি’। এর মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে আগের চেয়ে আরও মজবুত করতে চায়। তবে ইরানের এই দাবিগুলো নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি।















