আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে নাজেহাল বিশ্বরাজনীতি৷ পাল্লা দিচ্ছে চরম আর্থিক সঙ্কট। একদিকে ইজরায়েলি হানায় তপ্ত ইরান, অন্যদিকে সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে পালটা চাল চালল তেহরান। 

যুদ্ধের খরচ তুলতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি জাহাজগুলির ওপর আকাশছোঁয়া ‘কর’ বা টোল বসিয়েছে তারা। জাহাজ পিছু এই খরচের পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ১৮ কোটি টাকারও বেশি।

ইরানের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘বল প্রদর্শন’ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সে দেশের সংসদীয় কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি সাফ জানিয়েছেন, "যুদ্ধের খরচ অনেক। তাই এখন থেকে এই জলপথ ব্যবহারের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার এই শক্তিকে মোটা টাকা দিতে হবে।" কয়েক দশক পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের এহেন চাল কার্যত বিশ্ব বাণিজ্যে বড়সড় ধাক্কা।

এদিকে এই যুদ্ধের জেরে আমেরিকার কোষাগারে টান পড়েছে। মার্কিন সেনেটর ক্রিস মারফির দাবি, এই বন্ধ জলপথ ফেরাতে গিয়ে প্রতিদিন আমেরিকার খরচ হচ্ছে অন্তত ২০০ কোটি ডলার। তাঁর তোপ, "এ এক চরম উন্মাদনা! যে সমস্যা আমরা নিজেরা তৈরি করেছি, এখন তার সমাধানের জন্যই কোটি কোটি ডলার জলে ফেলছি।" মারফির মতে, যুদ্ধের আগে এই প্রণালী খোলাই ছিল, অথচ এখন আমেরিকার জেদের কারণে বিপুল অর্থ নষ্টের পাশাপাশি মার্কিন সেনার প্রাণ যাচ্ছে।

পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে দেওয়া চরমপত্রের সময়সীমা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার মাধ্যমে জলপথ খোলার প্রক্রিয়া "খুব ভালো" এগোচ্ছে। যদিও তেহরান সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের পাল্টা হুঙ্কার- আলোচনা নয়, বরং তাদের 'দাবি' স্বীকার করতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অচলাবস্থার জেরে বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। একদিকে ইজরায়েলের একের পর এক বিমানহামলা, অন্যদিকে ইরানের এই আর্থিক বাধানিষেধ- সব মিলিয়ে এক গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্ব।