আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটি নৌকা পার্টিতে নিজের স্তন্য দুগ্ধ সহকর্মীদের পান করতে দেওয়ার ভিডিও পোস্ট করে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন এক ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সার। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা এটা কি স্বাভাবিক এক মুহূর্ত, নাকি একেবারেই “ক্রিঞ্জ” ও অস্বস্তিকর আচরণ?

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সি ইনফ্লুয়েন্সার স্টিভেনসন। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি নৌকা পার্টির মাঝেই তিনি স্তন্য দুগ্ধ পাম্প করছেন এবং তা নিজের টিমের এক সদস্যকে চেখে দেখতে দিচ্ছেন। ওই কর্মী এক চুমুক নিয়ে হেসে ফেলেন। এরপর আরেকজন মহিলা  সহকর্মী দুধ চেখে দেখার পরপরই অন্য একটি পানীয় খেয়ে নেন। ভিডিওতে স্টিভেনসন নিজের স্বামী এবং বড় ছেলেকেও দুধের স্বাদ নিতে অনুরোধ করেন।

ভিডিওর ক্যাপশনে স্টিভেনসন লেখেন, “তারা কি সত্যিই আপনার বন্ধু, যদি আপনার সদ্য পাম্প করা স্তন্য দুগ্ধ চেখে না দেখে? আমাদের কাজের টিম কি একটু বেশিই ঘনিষ্ঠ নয়?” তিনি দর্শকদেরও ট্যাগ করতে বলেন, যারা অন্যের স্তন্য দুগ্ধ চেখে দেখতে রাজি। পোস্টের শেষে তিনি যোগ করেন, “আসলে এটা বেশ সুস্বাদু!”

এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একাংশ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অস্বস্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কেউ মন্তব্য করেছেন, “না, কখনোই না।” আবার অনেকে বলেছেন, তারা কখনো স্তন্য দুগ্ধ চেখে দেখেননি, এমনকি একাধিক সন্তানের মা হয়েও নয়। অন্যদিকে, সমর্থকদের একাংশ দাবি করেছেন, বুকের দুধ চেখে দেখা অস্বাভাবিক কিছু নয়। একজন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী লেখেন, “আমার স্তন্য দুগ্ধর  স্বাদ ছিল মিষ্টি, বাচ্চাদের বাটিতে থেকে যাওয়া দুধের মতো, ভীষণ অবাক হয়েছিলাম।”

স্টিভেনসন তিন সন্তানের মা—ফক্স (৫) ও মালাকাই (২) নামে দুই ছেলের পর চলতি বছর তিনি তৃতীয় পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সন্তানের জন্মের পর থেকেই তিনি তার ইনস্টাগ্রামে মাতৃত্বের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মানসিক লড়াই খোলাখুলি ভাগ করে নিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি জানান, তার নবজাতক সন্তান তীব্র রিফ্লাক্স সমস্যায় ভুগছে, যার ফলে গত কয়েক সপ্তাহ তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় কেটেছে।

একটি আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, “সত্যি বলতে গেলে, গত ছয় সপ্তাহ আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। এমন একটি শিশুকে সামলানো, যে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই চিৎকার করে ও বমি করে, এটা আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে।” তিনি আরও জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াই তাকে একাকীত্ব ও বিষণ্নতার অনুভূতি থেকে কিছুটা মুক্তি দিয়েছে।

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়াকে প্রকাশ্যে এনে কনটেন্ট বানানো কি সচেতনতা বাড়ায়, নাকি সীমা ছাড়িয়ে যায়? নেটদুনিয়া এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। কেউ একে স্বাভাবিক মাতৃত্বের প্রকাশ বলে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, সব কিছুই কি ভাইরাল কনটেন্ট হওয়া উচিত?