আজকাল ওয়বডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ও কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিকের জন্য এইচ-১বি ভিসা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ ২০২৬ পেরিয়ে সরাসরি ২০২৭ সালে চলে যাওয়ায় বহু ভারতীয় পরিবার কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তানদের দীর্ঘ সময় আলাদা থাকতে হচ্ছে, যার মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক প্রভাব ক্রমেই গভীর হচ্ছে।


ভারতের বিভিন্ন মার্কিন কনস্যুলেটে এইচ-১বি ও সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে সাক্ষাৎকারের তারিখ পিছিয়ে গেছে। অনেক আবেদনকারী জানিয়েছেন, অনলাইন পোর্টালে লগইন করলে সবচেয়ে কাছের অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ দেখাচ্ছে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা শেষের দিক। ফলে যাঁরা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন কিন্তু ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য ভারতে এসেছেন, তাঁদের আবার কাজে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতে কর্মরত পেশাজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকেই ছুটি নিয়ে বা জরুরি পারিবারিক কারণে ভারতে এসে আটকে পড়েছেন। ভিসা না হওয়ায় তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে পারছেন না, চাকরি সমস্যার মুখে পড়ছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।


একজন বেঙ্গালুরুভিত্তিক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “আমার স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তান আমেরিকায়। শুধু ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য দেশে এসেছিলাম। এখন শুনছি ইন্টারভিউ ২০২৭ সালের আগে পাওয়া যাবে না। দুই বছর পরিবার ছাড়া কীভাবে থাকব, বুঝতে পারছি না।”


শুধু কর্মীরাই নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রীরা কাজ ও পড়াশোনা বন্ধ করে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুদের স্কুলিং, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে একাধিক কারণে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে কনস্যুলার পরিষেবায় জনবল সংকট, ভিসা আবেদন বৃদ্ধি, নিরাপত্তা যাচাই জোরদার করা এবং অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির ফলে ব্যাকলগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাঝে মাঝে “ইন্টারভিউ ওয়েভার” বা ড্রপবক্স সুবিধা বাড়ানোর কথা বলছে, বাস্তবে অনেক আবেদনকারী তা পাচ্ছেন না।


ভারতীয়-আমেরিকান সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কর প্রদানকারী ও দক্ষ কর্মীদের এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা অমানবিক। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দ্রুত অতিরিক্ত কনস্যুলার কর্মকর্তা নিয়োগ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বাড়ানো এবং পরিবার বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।

 


এদিকে অনেক আবেদনকারী বিকল্প পথ খুঁজছেন—কেউ ইউরোপ বা কানাডায় কাজের সুযোগ দেখছেন, কেউ আবার স্থায়ীভাবে ভারতে ফিরে আসার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এইচ-১বি ভিসা সংকট এখন শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি হাজার হাজার ভারতীয় পরিবারের জীবনে গভীর মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।