বৃহস্পতিবার সোনার দামে বড় ধস দেখা গেল ফিউচার্স বাজারে। দুর্বল সঙ্কেত এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে সোনার দাম এক লাফে ৩,৬১৬ টাকা কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৯,৪০৯ টাকায় নেমে আসে। শতাংশের হিসেবে এই পতন প্রায় ২.৩৬%, যা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য।
2
7
এপ্রিল ডেলিভারির সোনা চুক্তিতে এই পতন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে মোট ৭,৩৮৭ লটের লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার ওপর চাপ বাড়ার প্রধান কারণ হল মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড বৃদ্ধি। এই দুইয়ের ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমে গেছে।
3
7
আন্তর্জাতিক বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। নিউ ইয়র্কের কমেক্সে এপ্রিল ডেলিভারির সোনার ফিউচার্স ১২০.৮৪ ডলার বা প্রায় ২.৪৭% কমে প্রতি আউন্সে ৪,৭৭৫.৩৬ ডলারে নেমে এসেছে। ফলে স্পষ্ট, শুধু দেশীয় নয়, বিশ্ব স্তরেও সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
4
7
এই পতনের পিছনে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক নীতিগত অবস্থান বড় ভূমিকা নিয়েছে। ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি তাদের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং নিরপেক্ষ সুদের হার সংক্রান্ত পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
5
7
এর পাশাপাশি ফেব্রুয়ারির মার্কিন প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স প্রত্যাশার তুলনায় বেশি এসেছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও বজায় থাকার ইঙ্গিত দেয়। ফলে ফেড ভবিষ্যতে সুদের হার কমাতে তাড়াহুড়ো করবে না—এমন ধারণা শক্তিশালী হয়েছে।
6
7
বিশ্বজুড়ে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি, সাধারণত সোনার দাম বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এবার তার প্রভাব সীমিত, কারণ শক্তিশালী ডলার ও উচ্চ বন্ড ইয়িল্ড সেই প্রভাবকে ছাপিয়ে গেছে।
7
7
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার বাজার কিছুটা চাপে রয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি সংশোধনের সুযোগও হতে পারে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষিত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।