আজকাল ওয়েবডেস্ক: থাইল্যান্ডের মনোরম সৈকত শহর ক্রাবিতে বেড়াতে গিয়ে চরম বর্ণবিদ্বেষের শিকার হতে হলো এক ভারতীয় পর্যটককে। সামান্য একটি ব্রেকফাস্টি বিল নিয়ে ঝামেলার জেরে ওই পর্যটককে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য ও জাতিগত বৈষম্যমূলক আক্রমণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
কাশ্মীরের বাসিন্দা ওই পর্যটক জানিয়েছেন, আও নাং অঞ্চলের একটি রেস্তোরাঁয় প্রাতরাশ সারার পর বিল নিয়ে সামান্য একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ একজন মহিলাকে দোভাষী হিসেবে ডেকে আনেন। অভিযোগ, ওই মহিলা পর্যটকের জাতীয়তা জিজ্ঞাসা করার পর যখনই জানতে পারেন তিনি ভারতীয়, তখনই তাঁর আচরণ আমূল বদলে যায়। ওই পর্যটকের দাবি, মহিলাটি চিৎকার শুরু করে বলতে থাকেন, "ভারতীয়রা কখনোই টাকা দিতে চায় না।" ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে সরে এসে গোটা দেশ ও জাতিকে নিয়ে একের পর এক কুরুচিকর মন্তব্য ও সাধারণীকরণ করতে থাকেন তিনি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে ওই যুবক পাল্টা তর্কে না জড়িয়ে থাইল্যান্ডের 'ট্যুরিস্ট পুলিশ'-কে ফোন করেন। তিনি জানান, থাইল্যান্ড খুব ভালো দেশ বলে পরিচিত হলেও, এই প্রথম তিনি সেখানে এমন আচরণের সম্মুখীন হলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশি মধ্যস্থতায় পরে রেস্তোরাঁ ম্যানেজার ওই পর্যটকের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন। পর্যটক স্পষ্ট জানান, সমস্যাটি অর্থের ছিল না, ছিল সম্মানের।
ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিও শেয়ার করে ওই যুবক লিখেছেন, বর্ণবিদ্বেষ কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা দ্বিধাবিভক্ত হলেও অধিকাংশ মানুষই পর্যটকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বহু থাই নাগরিক ওই ভিডিওর নিচে কমেন্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ অতীতে কিছু ভারতীয় পর্যটকের আচরণের দিকে আঙুল তুললেও, নেটিজেনদের বড় একটি অংশই মনে করেন, কারোর ব্যক্তিগত আচরণের জন্য গোটা জাতিকে আক্রমণ করা অপরাধ। কাশ্মীরি এই পর্যটক তাঁর বার্তায় বলেন, মানুষ হিসেবে একে অপরের সংস্কৃতিকে জানাই তাঁর ভ্রমণের মূল লক্ষ্য এবং পক্ষপাতিত্ব কোনও দেশের ক্ষেত্রেই কাম্য নয়। বর্তমানে এই ঘটনাটি থাইল্যান্ডের পর্যটন মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।















