আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের উপর উস্কানি এবং অত্যাচার সত্ত্বেও, ভারত ঢাকার ত্রাণকর্তা হিসেবে এগিয়ে এসেছে। ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে ভারত বাংলাদেশে ৫,০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করেছে। এই জ্বালানি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে নির্মিত পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। এটি সেই একই পাইপলাইন যা জামাত-ই-ইসলামী এবং বিএনপি ভারতীয় আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে সমালোচনা করেছিল। এমনকি হাসিনাকে ভারতীয় এজেন্ট বলা হয়েছিল এবং দেশ বিক্রি করার অভিযোগও আনা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
কিন্তু এখন পালে হাওয়া পেয়েছে আওয়ামী লীগ। পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের পরেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রী মহম্মদ এ. আরাফাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামাতকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, “যখন পাইপলাইনটি নির্মিত হয়েছিল, তখন বিএনপি এবং জামাত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করার অভিযোগ এনেছিল। তারা দাবি করেছিল যে এই প্রকল্প দিয়ে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করা হয়েছে। হাসিনাকে সেই সময় অসংখ্য সমালোচনা এবং অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।”
আরাফাত আরও লিখেছেন, একই পাইপলাইনের মাধ্যমে এখন ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। যা দেশের জ্বালানি সরবরাহকে কিছুটা সহজ এবং স্থিতিশীল করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যের’ আখ্যানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান-সমর্থিত রাজাকাররা তৈরি করেছিল এবং আজও প্রচার করা হচ্ছে।
হাসিনার সমালোচকদের নিশানা করে আরাফাত বলেন, “তারা বাংলাদেশ ও ভারতের স্বাধীনতাপন্থী শক্তির মধ্যে সমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বকে ভারতীয় আধিপত্য হিসেবে বর্ণনা করে। এর কারণ, তাদের চিন্তাভাবনা এখনও পাকিস্তানপন্থী আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত।”
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত তেল পাইপলাইনটি ২০২৩ সালে চালু হয়েছিল। এটি উদ্বোধনের আগে ভারত রেলপথে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করত। এই পাইপলাইনটি ভারতের শিলিগুড়ির কাছে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিনই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে ৯০ লক্ষ লিটার ডিজেল পৌঁছেছিল। ভারতের অর্থায়নে ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনটি প্রায় ৩৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত।
