আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে শুল্ক যুদ্ধ। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের মূল্য চোকাতে হচ্ছে ভারতকে, পরপর শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প। তা নিয়েই টানাপোড়েন। এসবের মাঝেই নয়া আঙ্গিক! আচমকা আমেরিকার দাবি, ভারতই নাকি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এমনই দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সের্গিও গোর-এর। আর কয়েক ঘন্টার (১২ জানুয়ারি) মধ্যেই ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লির মধ্যে থমকে থাকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা হবে। তার আগেই, 'বন্ধু' মোদির ভারতে ট্রাম্পের আসার খবর জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সঙ্গেই জানা গেল আরও বড় তথ্য। 

সূত্রের খবর, দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে বক্তব্য রাখার সময় সের্গিও গোর জোর দিয়ে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব 'বাস্তব' এবং  প্রকৃত বন্ধুরা তাঁদের মতপার্থক্য সমাধান করতে পারে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, 'প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা সবসময় তাঁদের মতপার্থক্য সমাধান করে নেয়।'

মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্গিও গোর সোমবার জানিয়েছেন, ভারতকে প্যাক্স সিলিকায় যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। 

'প্যাক্স সিলিকা' জোট কী?

একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং উদ্ভাবন-চালিত সিলিকন সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি কৌশলগত উদ্যোগ। গত ডিসেম্বরেই ‘প্যাক্স সিলিকা’ তৈরির কথা জানায় আমেরিকা। এর মাধ্যমে মূলত সিলিকন উপত্যকার সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধশালী, নিরাপদ এবং উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে থাকবে বিরল খনিজ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ এবং কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) পরিকাঠামো। 

সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীতে থাকছে জাপান, রিপাবলিক অফ কোরিয়া (দক্ষিণ কোরিয়া), সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন, ইজ়রায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অস্ট্রেলিয়া। এছাড়াও রিপাবলিক অফ চায়না বা তাইওয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ এবং কানাডাকে নিয়ে ‘প্যাক্স সিলিকা’ গঠন করতে চলেছে আমেরিকা। 

এদিন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সারা বিশ্ব ঘুরেছি এবং আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে- প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব বাস্তব, এতে কোনও খাদ নেই।" গোর আরও ঘোষণা করেন যে, ভারত 'প্যাক্স সিলিকা' জোটের সদস্য হবে। তিনি বলেন, "আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আগামী মাসে এই দেশগুলোর জোটে ভারতকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।"

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, : আগামী বছরই ভারত সফরে আসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনই দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সের্গিও গোর। আর কয়েক ঘন্টার (১২ জানুয়ারি) মধ্যেই ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লির মধ্যে থমকে থাকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা হবে। তার আগেই, 'বন্ধু' মোদির ভারতে ট্রাম্পের আসার খবর জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বাণিজ্যচুক্তি, অতিরিক্ত শুল্ক নিয়ে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক তলানীতে। সেই সময়েই সের্গিও গোরের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের চেয়ে অপরিহার্য আর কোনও দেশ নেই।

দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে বক্তব্য রাখার সময় সের্গিও গোর জোর দিয়ে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব 'বাস্তব' এবং  প্রকৃত বন্ধুরা তাঁদের মতপার্থক্য সমাধান করতে পারে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, "প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা সবসময় তাঁদের মতপার্থক্য সমাধান করে নেয়।"