আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-এর উত্তরাধিকার নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আমেরিকান দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই এখন ইরানের ক্ষমতার মসনদে নতুন সম্ভাব্য মুখ। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি, তবু ইরানের ক্ষমতায়নের কাঠামোর ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

মোজতবা খামেনেই (বয়স ৫৬) জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৯ সালে, ইরানের শহর মাশহাদে। তাঁর বড় হওয়া জুড়ে আছে তাঁর বাবা আলি খামেনেই এর রাজনৈতিক সংগ্রাম। শাহবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয়তা এবং পরবর্তীতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের কারণে ইরানের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাওয়া, এসবের মাঝেই মোজতবা খামেনেই-এর বেড়ে ওঠা।  তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে ইরানের অনেক প্রভাবশালী আলেমদের মতো তিনি উচ্চপদস্থ ধর্মীয় স্কলার হিসেবে পরিচিত নন। তাঁর কোনও  নির্বাচিত রাজনৈতিক পদও নেই। কিংবা তাঁর কোনও সরকারি দায়িত্বও নেই। 

তবুও, ইরানের রাজনৈতিক অন্দরমহলে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে তাঁর সঙ্গে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ড কর্প্স-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা প্রায়ই আলোচনায় আসে। ধারণা করা হয়, বহু বছর ধরেই তিনি তাঁর বাবার কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো দেখভাল করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পদে তিনি উপনীত নন। ২০১৯ সালে আমেরিকা তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এই অভিযোগে যে, তিনি কোনও আনুষ্ঠানিক পদে না থাকা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন। 

&t=21s

ইরান নিজেকে একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে তুলে ধরে, যেখানে উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের ধারণা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়। বিশেষ করে ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে বিচার করলে শিয়া ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে পিতা থেকে পুত্রে নেতৃত্ব হস্তান্তর ভালো চোখে দেখা হয় না। যদি মোজতবা খামেনেই সর্বোচ্চ নেতা হন, তাহলে সেটি হবে ইরানের ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন। এটি অনেকে রাজতন্ত্রের সূচনা বলেও সমালোচনা করতে পারেন। আবার সমর্থকদের মতে, বর্তমান সংকটময় সময়ে পরিচিত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। 

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান বিশেষজ্ঞ আলি নাসর মন্তব্য করেছেন, “মোজতবার উত্থান হলে স্পষ্ট ইঙ্গিত করবে, ইরানের শাসনব্যবস্থায় কট্টরপন্থী অংশ আরও কঠিন পর্যায় গিয়ে ঠেকার দিকে।” 

ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে ৮৮ জন সদস্যের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামের একটি সংস্থা। এই সংস্থার সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন এবং সংবিধান অনুযায়ী তারাই সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়োগের পাশাপাশ তদারকিও করেন। যদি আবারও নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়, তাহলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরে, এই দ্বিতীয়বার নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হবে। ফলে এই সিদ্ধান্ত শুধু ইরানের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আকেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আরও গভির হতে পারে। 

মোজতবা খামেনেইয়ের নাম সামনে আসা ইরানের রাজনীতিতে এক সম্ভাব্য মোড়ের ইঙ্গিত করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি কেবল রাজনৈতিক অন্দরমহলের গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচিত থাকবে।