আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন শীর্ষ আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পরেও দমে যাওয়ার পাত্র নন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ট্রাম্পের প্রশাসন একাধিক দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে ১৬টি দেশ। এই দেশগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী বাণিজ্য অংশীদার।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, এই ১৬টি দেশের বাণিজ্য নীতিতে গরমিল রয়েছে। যা 'অন্যায্য' বলেই মনে করছেন ট্রাম্প। এই ১৬টি দেশের তালিকায় চীন, ভারত, বাংলাদেশের মতো দেশ রয়েছে। অনেকেরই মতে, ট্রাম্প ফের আরও শুল্ক আরোপের জন্যেই এই তদন্ত শুরু করার পরিকল্পনা করেছেন।
জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারায় ১৬টি দেশের বাণিজ্য নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করবে ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের দাবি, এই তদন্ত শুরু হলেই চীন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকোর মতো দেশে আগামী কয়েক মাসেই নতুন করে শুল্ক আরোপ করতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই তালিকায় কানাডার নাম নেই।
গত মাসে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বেআইনি ঘোষণা করে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, অন্য দেশের ওপর শুল্ক চাপানোর বিকল্প হিসেবে এই তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগেও চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে এই তদন্ত চালিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর চাপানো অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বা ‘ট্যারিফ’ বাতিল করে দেয় সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। সে দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানায়, ঢালাও শুল্ক বসিয়ে আসলে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। জরুরি অবস্থার জন্য তোলা থাকা একটি আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এই কর চাপিয়েছিলেন, যা একেবারেই নিয়মবিরুদ্ধ।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ক বাবদ ট্রাম্পের আয় হয়েছে ১৩.৩৫ হাজার কোটি ডলার। শুল্ককে বেআইনি বললেও টাকা ফেরতের বিষয়টি স্পষ্ট করেনি মার্কিন আদালত। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, আগামী দিনে নিম্ন আদালতগুলি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের উপরেও বিষয়টি ছাড়া হতে পারে।
ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর হাজারের বেশি সংস্থা টাকা ফেরতের জন্য আইনি লড়াই শুরু করেছে। এই বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আগামী পাঁচ বছর ধরে আমাদের সকলকে কোর্টের চক্কর কেটে বেড়াতে হবে।’
মার্কিন আইন উল্লেখ করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১২২ নম্বর ধারার অধীনে আরোপিত স্বাভাবিক শুল্কের উপরে ১০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শুল্ক তিনি আরোপ করছেন। শুল্ক আরও বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের সময় ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এই ধারাও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বেশি দিন বলবৎ থাকবে না। সর্বোচ্চ ১৫০ দিন এই শুল্ক কার্যকর হতে পারে। তার পরেও তা চালিয়ে যেতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন আনতে হবে ট্রাম্পকে।
