আজকাল ওয়েবডেস্ক: অশান্ত পদ্মাপার। জুলাই অভ্যুত্থানের বছর ঘোরার পরেই নতুন করে অশান্তির যে রেশ ছড়িয়ে পড়েছে, তা থামার লক্ষণ নেই। অন্যদিকে সে দেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে একের পর এক যে তথ্য সামনে আসছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ক্রমাগত সে দেশে আক্রান্ত, মৃত সংখ্যালঘুরা।
বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে, শনিবার অশান্তি থামাতে গিয়ে, নির্মমভাবে খুন হয়েছেন সে দেশের এক হোটেল মালিক। নাম লিটনচন্দ্র ঘোষ। বয়স ৫৫।
জানা গিয়েছে, গাজীপুরের কালীগঞ্জে লিটনের একটি মিষ্টির দোকান এবং হোটেল রয়েছে। তার সামনেই অশান্তি ছড়ায় শনিবার। অশান্তির সূত্রপাত কলার কান্দি নিয়ে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, স্বপন মিঞার বাগানের কলা নিয়েই শুরু হয় বিবাদ। বিবাদ শুরু হয় লিটনের হোটেলের এক কর্মীর সঙ্গে। অশান্তি জটিল আকার নিতেই, লিটন নিজেই থামানোর চেষ্টা করেন। তাতেই ঘটে বিপত্তি।
সূত্রের খবর, তিনি হোটেলের কর্মীর জন্য মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন। অশান্তি থামানোর চেষ্টা করায়, উলটে তাঁর উপরেই চড়াও হন কয়েকজন। অভিযোগ তাঁকে ঘটনাস্থলেই চড় ঘুষি মারা হয়। মারা হয় বেলচা দিয়েও।
জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ, প্রকাশ্য দিবালোকে এই ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার সামনে আসে আরও এক নির্মম ঘটনা। বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলায় একটি গাড়িতে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে এক হিন্দু যুবককে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সে দেশের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম রিপন সাহা। বয়স ৩০ বছর। এই ঘটনা এটি বাংলাদেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার উদ্বেগজনক ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিপন গোয়ালন্দ মোড়ের করিম পেট্রল পাম্পে স্টেশনে কাজ করতেন। অভিযোগ, শুক্রবার ভোরে গাড়িতে তেল ভরিয়ে জ্বালানির দাম দিতে অস্বীকার করার পর তিনি একটি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। সেই সময় গাড়িটি তাঁকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি কালো এসইউভি পেট্রল পাম্পে আসে এবং প্রায় ৫,০০০ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩,৭১০ টাকা) মূল্যের তেল নেয়। চালক টাকা না দিয়েই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে রিপন গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি সেই সময় তাঁকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তারপরেই রবিবার সকালে সামনে এল, শনিবার সে দেশেই ঘটে যাওয়া আরও এক মর্মন্তিক ঘটনা। ফের পদ্মাপারে পিটিয়ে খুন সংখ্যালঘু।
