আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে পুলিশ হেফাজতে বিখ্যাত হিন্দু সঙ্গীতশিল্পী এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা প্রলয় চাকির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, কারা প্রশাসনের তরফ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রলয়কে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়নি। পুলিশের দাবি, তাঁর ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হয়েছে। যদিও পরিবার সেই দাবি মানতে চায়নি।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় একটি বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন প্রলয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই পরবর্তীতে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এ রূপ নিয়েছিল। এর ফলে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল এবং দেশ ছাড়তে হয়েছিল। আওয়ামী লিগের পাবনা ইউনিটের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক প্রলয়কে গত ১৬ ডিসেম্বর পাবনার দিলালপুরের বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও তাঁর ছেলের দাবি, কোনও মামলা ছাড়াই বাবাকে গ্রেপ্তার করে রাখা হয়েছিল।
পাবনা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট মহম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, প্রলয় ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ-সহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। ওমর জানিয়েছেন, “শুক্রবার প্রলয় হৃদরোগে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই রবিবার রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।” তিনি আরও বলেন, “এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু।”
প্রলয়ের ছেলে সনি চাকি বলেন, “সেই সময় কোনও মামলায় নাম না থাকা সত্ত্বেও আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। জেলে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু জানায়নি।” তিনি আরও বলেন, “অন্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। কিন্তু বাবা সঠিক চিকিৎসা পাননি, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়।”
প্রসঙ্গত, ১৭ কোটি জনসংখ্যার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।ইসলামপন্থী শক্তিগুলির পুনরুত্থানের ফলে হিন্দু-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে ফের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতবিরোধী কট্টরপন্থী নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হিংসা সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবিবার রাতেই চট্টগ্রামের দাগনভূঁইয়ায় অটোচালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মৃত যুবকের নাম সমীর দাস। বয়স ২৮ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা অটোচালককে পিটিয়ে ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীরা যুবকের ব্যাটারিচালিত অটোটি চুরি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার হিন্দু যুবক জয় মহাপাত্রের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। পরিবারের অভিযোগ ছিল জয়কে পিটিয়ে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।
গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলায় ২৭ বছর বয়সী দীপু দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় ইসলামপন্থী জনতা মারধর করে হত্যা করে, মৃতদেহ গাছ থেকে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ৪০ বছর বয়সী দোকানি শরৎমণি চক্রবর্তীকে সোমবার রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়। সেই আঘাতের কারণে মারা যান। তাঁকে হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে যশোর জেলায় ৪৫ বছর বয়সী রানা প্রতাপকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৩ জানুয়ারি ঝিনাইদহ জেলায় এক হিন্দু নারীকে দু’জন ধর্ষণ করে। এর পর নির্যাতিতাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয়। এর কয়েকদিন আগে ৫০ বছর বয়সী খোকন চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভালুকার একটি পোশাক কারখানায় সহকর্মীর হাতে নিহত ৪০ বছর বয়সী বাজেন্দ্র বিশ্বাস, রাজবাড়ীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হন ২৯ বছর বয়সী অমৃত মণ্ডল।
