আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তার কয়েক দিন পর ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো জানিয়েছেন, তিনি তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যখন তিনি এই পুরস্কার পেয়েছিলেন, তখনও তিনি একই ধরনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
একটি সাক্ষাৎকারে মাচাদো ফক্স নিউজকে বলেন, “আমি অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে বলতে চাই যে আমরা, ভেনেজুয়েলার জনগণ অবশ্যই এই নোবেল শান্তি পুরস্কারটি তাঁকে দিতে চাই এবং তাঁর সাথে ভাগ করে নিতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “তিনি এর যোগ্য ছিলেন বলেই আমি বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, তিনি বিশ্বকে প্রমাণ করেছেন যে তিনি কীসের প্রতীক। ৩ জানুয়ারি এমন একটি দিন হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে যেদিন ন্যায়বিচার স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছিল। এটি একটি মাইলফলক। এটি শুধু ভেনিজুয়েলাবাসীদের জন্যই নয়, মানবতার জন্যও একটি বিশাল পদক্ষেপ।”
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাচাদো বলেন, “আমি ১০ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, যেদিন (নোবেল শান্তি) পুরস্কারটি ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু তারপর থেকে আর কথা হয়নি।”
ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর একটি রাতের অভিযানে আটক করার কয়েক দিন পরেই মাচাদোর এই মন্তব্য। আমেরিকা যখন ঘোষণা করেছিল যে মাদুরো তাদের হেফাজতে আছেন, তখন মাচাদো ঘোষণা করেন যে ‘স্বাধীনতার সময় এসে গিয়েছে’। এর পর থেকেই সে দেশের মানুষ আশা করতে শুরু করেছেন যে বছরের পর বছর দমনপীড়নের পর বিরোধী দল শীঘ্রই তেলসমৃদ্ধ দেশটির নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারে। ডেলসি রদ্রিগেজ এখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
গত বছরের অক্টোবরে মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন। নোবেল কমিটি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রামকে এই পুরস্কারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা পেলেও, তিনি বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়ার পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। যাকে পশ্চিমি বিশ্বের অনেকেই জয়ী হিসেবে দেখছেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে থাকা মাচাদো নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক অভিযানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য অপরিহার্য বলে অভিহিত করেছেন। সেই সময়ে তিনি এক্স-এ লিখেছিলেন, “আমি এই পুরস্কারটি ভেনেজুয়েলার দুর্দশাগ্রস্ত জনগণের প্রতি এবং আমাদের উদ্দেশ্যকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উৎসর্গ করছি!”
তবুও, ট্রাম্প শর্তসাপেক্ষে ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাচাদো সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “দেশের অভ্যন্তরে তাঁর কোনও সমর্থন বা সম্মান নেই। তিনি খুব ভাল একজন মহিলা, কিন্তু তার প্রতি মানুষের কোনও শ্রদ্ধা নেই।”
