আজকাল ওয়েবডেস্ক: সকলেই অপেক্ষায় ছিলেন সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে অনু্ষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ)-এ কী বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর গ্রিনল্যান্ড দখল করার ইচ্ছের বিরোধীতা করেছেন ইউরোপীয় নেতারা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেছেন। এই সব শুনেই দাভোসে ট্রাম্পের হুমকি, “আমি ইউরোপের ভাল চাই, কিন্তু তারা ঠিক দিকে যাচ্ছে না।” তাঁর সদর্পে ঘোষণা, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকারই অংশ।

নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে দাভোসে এসে পৌঁছন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প শুরু করেন এই বলে যে, ‘এত বন্ধু এবং কিছু শত্রুদের’ সামনে ভাষণ দিতে পেরে ভাল লাগছে। যা শুনে সভাকক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়। এরপর তিনি মার্কিন অর্থনীতির প্রশংসা করেন। ট্রাম্প তাঁর ভাষণ শুরুতে প্রতিশ্রুতি দেন যে আমেরিকা এমন প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে যা আগে কোনও দেশ দেখেনি। ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, মূল্যবৃদ্ধিকে হার মানানো গিয়েছে। আমেরিকার উন্মুক্ত ও বিপজ্জনক সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মানুষ খুব ভাল আছেন, তারা আমার উপর খুব খুশি। 

এরপর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, তিনি কর কমাচ্ছেন এবং বিদেশি দেশগুলির ওপর শুল্ক বাড়াচ্ছেন। তারা এতদিন আমেরিকার যে ক্ষতি করেছে, তার ক্ষতিপূরণ করছেন বলে দাবি করেন তিনি। বাণিজ্য প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রায় প্রতিটি দেশের শেয়ারবাজারে উন্নতি দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এই গ্রহের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। আর যখন আমেরিকা সমৃদ্ধি লাভ করে, তখন পুরো বিশ্বই সমৃদ্ধি লাভ করে। আপনারা সবাই আমাদের পতনের সময়ও আমাদের অনুসরণ করেন এবং উত্থানের সময়ও আমাদের অনুসরণ করেন।”

এরপরেই ইউরোপীয় গোষ্ঠীকে নিশানা করে বলেন, “সত্যি বলতে, ইউরোপের কিছু জায়গা এখন আর চেনার উপায় নেই। সেগুলো আর চেনা যায় না। আমি চাই ইউরোপের ভাল হোক, কিন্তু তারা সঠিক পথে এগোচ্ছে না।”

ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গে ট্রাম্প অবলীলায় স্বীকার করেন যে আমেরিকা সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কিনে নিয়েছে। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, “ভেনেজুয়েলা অসাধারণভাবে ভাল করবে এবং দেশটি গত ২০ বছরের তুলনায় দ্রুতই আরও বেশি অর্থ উপার্জন করবে।”

ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি চান ব্রিটেন দুর্দান্ত কিছু করুক। এর পরেই তিনি ব্রিটেনের সবুজ শক্তি কৌশলের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প সবুজ শক্তিকে একটি প্রতারণা বলেন। তিনি বলেন, তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তির উৎসের উপর বসে আছে, অথচ তারা সেটি ব্যবহার করছে না। তিনি মজা করে বলেন, শক্তি দিয়ে টাকা আয় করার কথা, হারানো নয়।” 

তিনি উত্তর সাগরে তেল উত্তোলন বন্ধ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন  এবং বলছেন যে অতিরিক্ত করের কারণে কোম্পানিগুলি তেল উত্তোলনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। এরপর ট্রাম্প সবুজ প্রযুক্তি শিল্পে চিনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি বলেন, “আপনি চিনে কখনও কোনও বায়ুকল দেখতে পাবেন না। তারা কেবল বোকা মানুষদের এগুলি কিনতে রাজি করানোর জন্য এগুলি তৈরি করে।”

ট্রাম্প বলেন, “আমরা পারমাণবিক শক্তিতে ব্যাপক মনোযোগ দিচ্ছি। আমি এর আগে এর খুব একটা ভক্ত ছিলাম না, কারণ আমি ঝুঁকিটা পছন্দ করতাম না, বিপদটা পছন্দ করতাম না, কিন্তু পারমাণবিক শক্তি নিয়ে তারা যে অগ্রগতি করেছে তা অবিশ্বাস্য, এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যে অগ্রগতি করেছে তা অসাধারণ।” তিনি বলেন, “আমরা পারমাণবিক শক্তির জগতে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করছি, এবং এখন আমরা এটি ভাল দামে এবং অত্যন্ত নিরাপদে পেতে পারি।”

ট্রাম্প রসিকতার ছলে গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। যে বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে তোলপাড় করছে, সেই বিষয়ে তিনি কিছু বলবেন কি না, প্রশ্ন করতেই শ্রোতাদের মধ্যে হাসির উদ্রেক হয়। তিনি বলেন, “আমার বক্তৃতা থেকে গ্রিনল্যান্ড বাদ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার মনে হয় তাহলে আমার সম্পর্কে খুব নেতিবাচক সমালোচনা হত।”

ডেনমার্কের দীর্ঘ সমালোচনা করার পর তিনি দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করার জন্য দেশটি খুবই দুর্বল। ট্রাম্প অঞ্চলটি সম্পর্কে অবস্থান ব্যক্ত করেন বলেন, “কৌশলগত জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এটি আমাদের প্রয়োজন। এই বিশাল অরক্ষিত দ্বীপটি আসলে উত্তর আমেরিকার অংশ। ওটা আমাদের ভূখণ্ড।”

ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা ছাড়া অন্য কোনও দেশ গ্রিনল্যান্ডকে সুরক্ষিত করতে পারবে না। আমি আবারও আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য অবিলম্বে আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি।”

গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ন্যাটো-র জন্য কোনও হুমকি হবে না বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “এর ফলে ন্যাটো জোটের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি হবে। ন্যাটো আমেরিকার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেছে।”