আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। তারপরই গোটা বিশ্ব পেতে চলেছে সুখবর। দিল্লি থেকে এই ঘোষণা করেছেন, আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পরেই এমনটা জানিয়েছেন রুবিও।  

রুবিও বলেন, "হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সমাধানের পথ খুলে খুলে যেতে পারে, গত ৪৮ ঘণ্টায় এমন একটি রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই ভারত সফররত রুবিও এই মন্তব্য করেন। 

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া, ওয়াশিংটন এবং তেহরান এইরকমই এক চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্টে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন যে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে যাবে। এই প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছিল।

তবে এই চুক্তিতে আর কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছেন, "চুক্তির চূড়ান্ত দিকগুলি এবং বিস্তারিত বিষয়াবলি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।"

'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার সঙ্গে চলমান ব্যাপকভিত্তিক শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান তাদের কাছে মজুদ থাকা 'উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম' হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে।

পত্রিকাটি দু'জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, তেহরান তাদের কাছে মজুদ থাকা (যা প্রায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার) ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই প্রকাশিত 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের কাছে মজুদ থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, আমেরিকা বারবার দাবি জানিয়ে আসছিল যে, ইরান যেন তাদের কাছে মজুদ থাকা এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেয়।

তবে ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বর্তমান পর্যায়ে এই সমঝোতাটি বেশ সাধারণ বা প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। তেজস্ক্রিয় এই পদার্থগুলো কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হবে, সে সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি নিয়ে এখনও কোনও আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।

'আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা'-র তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে। এই বিশুদ্ধতার মাত্রা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার অত্যন্ত কাছাকাছি।