আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এক রাতের মধ্যে ইরানকে শেষ করে দেব। ইরানকে কড়া হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তৈল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য তেহরানকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময়ের মধ্যে যদি ইরান সমঝোতায় না আসে তাহলে মারাত্মক পরিণতি হবে। এমনটাই জানিয়েছেন ট্রাম্প।


প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার অবধি ইরানকে সময় দিয়েছেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য। কিন্তু ইরান সে বিষয়ে এখনও কোনও উত্তর দেয়নি। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের নেতারা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। কিন্তু আশানুরূপ কিছু এখনও হয়নি। 
ইরান আবার সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপরেই এল ট্রাম্পের এই হুমকি। তিনি বলেছেন, ‘‌এক রাতেই দেশটাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারি। সেই রাতটা আগামীকালই আসতে পারে।’‌ ট্রাম্প আরও বলেছেন, সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‌ইরানের সমস্ত সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। 


এটা ঘটনা, হরমুজ প্রণালী ঘিরে ধোঁয়াশা ক্রমেই বাড়ছে। আমেরিকার সঙ্গে চলা এই প্রবল সংঘাতের মধ্যেই সোমবার তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, স্রেফ সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য তারা ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেবে না। সাফ কথা, আমেরিকার ‘‌সদিচ্ছার’‌ অভাব রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইরানি আধিকারিক সরাসরি ওয়াশিংটনকে তোপ দেগেছেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা ‘‌স্থায়ী’‌ শান্তিতে আগ্রহী নয়। তবে পাকিস্তান যে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তা স্বীকার করেছেন তিনি। তেহরান এখন সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে।
এরপরেই এল ট্রাম্পের এই হুমকি। 

এটা ঘটনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নেপথ্যে দূতের কাজ করছে মিশর, পাকিস্তান এবং তুরস্ক। তারা ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে দুই দেশকেই। 


লক্ষ্য হল, সাময়িকভাবে লড়াই থামিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। আমেরিকা বা ইরান কোনও পক্ষই এখনও এই প্রস্তাবে শিলমোহর দেয়নি। ইরান পাল্টা দাবি তুলছে আর্থিক ক্ষতিপূরণের। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখন টালমাটাল।