আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আমেরিকার একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন, যেখানে কানাডা, ভেনেজুয়েলা এবং গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মার্কিন এই মানচিত্রকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে। তবে মনে করা হচ্ছে যে, মানচিত্রটি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন চলছে। চলছে এক পক্ষের অন্য পক্ষকে নিশানা করে বাকযুদ্ধ। সেই প্রেক্ষাপটে নয়া মার্কিন মানচিত্র বেশ তাৎপর্যবাহী।
নয়া মানচিত্র পোস্ট করার কয়েক মিনিট পরেই, ট্রাম্প আরেকটি ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে তাঁকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সাথে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা লাগাতে দেখা গিয়েছে। পোস্টে লেখা আছে "গ্রিনল্যান্ড ইউএস টেরিটরি ইস্ট ২০২৬"।
গত বছর ক্ষমতায় আসার পর, ট্রাম্প কানাডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম প্রদেশ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে, কানাডিয়ান সরকার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়।
এই মাসের শুরুতে, মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলায় একটি অভিযান চালায়। তাতেই প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে কারাকাস থেকে বন্দি করা হয়। মাদক চোরাচালানের অভিযোগ তোলা হয় মাদুরোর বিরুদ্ধে। বিচারের জন্য ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে, ট্রাম্প বলেছেন যে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে "চালিয়ে" নেবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলি সেদেশের তেল নিয়ন্ত্রণ করবে। উল্লেখ্য দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভাণ্ডার। মাদুরোকে উৎখাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ'কে ওয়াশিংটনের নীতি অনুসরণ করে চলার নির্দেশ দিয়েছেন, অন্যথায় পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন। তবে, এই প্রথম ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উপর স্পষ্ট দাবি করেছেন।
ট্রাম্প কেন গ্রিনল্যান্ড চান?
ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে "জাতীয় নিরাপত্তার জন্য" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল, খনিজ সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজন, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিমধ্যেই ওই দ্বীপে একটি ঘাঁটি এবং ন্যাটো-র 'বন্ধু' রাষ্ট্র ডেনমার্কের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে।
সোমবারই ট্রাম্প বলেছেন যে, নোবেল পুরস্কার ফস্কানোর পর তিনি আর "শুধুমাত্র শান্তির" কথা ভাবতে রাজি নন। সেই সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য তাঁর বাগাড়ম্বর জোরদার করেছেন।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক অসাধারণ মতবিনিময়ের সময়, ট্রাম্প বিশাল আর্কটিক দ্বীপে ডেনমার্কের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেছিলেন যে, তিনি গ্রিনল্যান্ডের "সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ" চান। ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরকে লিখেছিলেন, '৮টি যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য আপনার দেশ আমাকে নোবেল শান্তি পুরষ্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আমি আর শুধু শান্তির কথা ভাবার বাধ্যবাধকতা বোধ করি না।"
ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার, তাঁর পরিকল্পনার বিরোধী ইউরোপীয় দেশগুলোর উপর নতুন করে বেশি শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন। ফলে অনেক দেশই শঙ্কায়। সোমবার শেয়ারবাজার খোলার সময় শেয়ার বাজারে খরা ছিল।
