আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলের গাংনাম এলাকায় একটি লিঙ্গ বৃদ্ধির অস্ত্রোপচারের সময় ভয়াবহ চিকিৎসাগত বিপর্যয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। ৩৫ বছর বয়সি এক পুরুষ রোগীর অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর যৌনাঙ্গ আড়াআড়িভাবে কেটে যায়। এর ফলে তিনি মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক আঘাতের শিকার হন এবং স্থায়ীভাবে যৌন ক্ষমতা হারান। একই সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক প্রস্রাবের ক্ষমতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইউরোলজিস্ট চিকিৎসককে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৩,১০০ পাউন্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে চলতি মাসে সিওলের একটি আদালত পেশাগত অবহেলার মাধ্যমে শারীরিক ক্ষতি করার দায়ে তাঁকে আরও প্রায় ৩,৬০০ পাউন্ড জরিমানা করে। যদিও চিকিৎসক এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
জানা গেছে, ওই রোগী এর আগেও দু’বার লিঙ্গ সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। আগের অস্ত্রোপচারের সময় বসানো একটি কৃত্রিম ইমপ্লান্ট পরে লিঙ্গের ভেতরের ইরেকটাইল টিস্যু বা কর্পাস ক্যাভারনোসামের সঙ্গে জোড়া লেগে যায়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ''অ্যাডহিশন'' বলা হয়, যা অস্ত্রোপচারের পর একটি পরিচিত জটিলতা এবং এর ফলে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক এই ঝুঁকির বিষয়টি রোগীকে স্পষ্টভাবে জানাননি।
অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক কর্পাস ক্যাভারনোসামের পুরো অংশ কেটে ফেলেন এবং মূত্রনালিকে ঘিরে থাকা কর্পাস স্পঞ্জিওসামের প্রায় সবটাই ক্ষতিগ্রস্ত করেন। এতে লিঙ্গ ও ইউরেথ্রায় মারাত্মক ক্ষতি হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মারাত্মক অ্যাডহিশনের ক্ষেত্রে আরও ক্ষতি হওয়ার আগেই অস্ত্রোপচার বন্ধ করা উচিত ছিল এবং প্রয়োজন হলে সেলাই করে জটিলতা এড়ানোর চেষ্টা করা যেত। কিন্তু শারীরিক গঠন স্পষ্ট না থাকা সত্ত্বেও অস্ত্রোপচার চালিয়ে যাওয়াই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ।
বিচার চলাকালীন চিকিৎসক দাবি করেন, তিনি রোগীকে ঝুঁকির কথা জানাননি এ অভিযোগ সঠিক নয় এবং ইউরেথ্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল না। তবে আদালত এই যুক্তি খারিজ করে জানায়, চিকিৎসক তাঁর পেশাগত দায়িত্ব ও রোগীকে সম্পূর্ণ তথ্য জানানোর কর্তব্য লঙ্ঘন করেছেন। আদালতের মতে, অস্ত্রোপচারের পূর্ণ ঝুঁকি আগে জানানো হলে রোগী হয়তো এই অস্ত্রোপচার করাতেই রাজি হতেন না।
এই ঘটনায় রোগী শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন। একটি ভুল চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত কীভাবে কারও সারা জীবনের ক্ষত হয়ে দাঁড়াতে পারে, এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ।
