আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বজুড়ে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। গুগল সম্প্রতি একটি বিশাল চীনা প্রক্সি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে, যা গোপনে লক্ষ লক্ষ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস হাইজ্যাক করে সাইবার অপরাধের কাজে ব্যবহার করছিল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ফোনকে ‘প্রক্সি সার্ভার’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজে লাগাচ্ছিল, ফলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে অনলাইন জালিয়াতি— সবই চলছিল নিঃশব্দে।

 

গুগলের সাইবার সিকিউরিটি টিমের তদন্তে জানা যায়, ম্যালওয়্যার আক্রান্ত অ্যাপ এবং ভুয়ো সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্যবহারকারীরা সাধারণ অ্যাপ ভেবে এগুলি ইনস্টল করলেও, পেছনে এগুলি ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিত। এরপর সেই ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে অবৈধ ট্রাফিক রুটিং, বিজ্ঞাপন জালিয়াতি, স্প্যাম ছড়ানো এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হত।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রক্সি বটনেট নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ আক্রান্ত ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না যে তাঁর ফোন ব্যবহার হচ্ছে অপরাধমূলক কাজে। এতে ডিভাইস ধীর হয়ে যায়, ডেটা দ্রুত শেষ হয়, ব্যাটারি অস্বাভাবিকভাবে খরচ হয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


গুগল জানিয়েছে, তারা হাজার হাজার ক্ষতিকারক অ্যাপ সরিয়ে দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সার্ভার ব্লক করেছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক অ্যাপ শনাক্ত করে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হচ্ছে। তবে শুধু গুগলের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়— ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে।


কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?
প্রথমত, সবসময় Google Play Store বা বিশ্বস্ত উৎস ছাড়া অন্য কোথাও থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। অজানা ওয়েবসাইট বা লিংক থেকে APK ফাইল ইনস্টল করা ঝুঁকিপূর্ণ।


দ্বিতীয়ত, ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করুন। নতুন আপডেটে নিরাপত্তা ফাঁক বন্ধ করা হয়।


তৃতীয়ত, কোনও অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় পারমিশন চাইলে সতর্ক হোন। একটি টর্চ অ্যাপ যদি কনট্যাক্ট বা মেসেজ অ্যাক্সেস চায়, তা সন্দেহজনক।


চতুর্থত, Play Protect বা অন্য বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। এতে ম্যালওয়্যার দ্রুত ধরা পড়ে।


পঞ্চমত, ফোন অস্বাভাবিক স্লো হলে বা ডেটা বেশি খরচ হলে সঙ্গে সঙ্গে অজানা অ্যাপ মুছে ফেলুন।

 

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়— ব্যাংকিং, কেনাকাটা, ব্যক্তিগত ছবি, সবই এখানে থাকে। তাই সামান্য অসতর্কতা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
গুগলের এই পদক্ষেপ বড় সাফল্য হলেও, ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপত্তা এক চলমান লড়াই। সচেতনতা আর সতর্কতাই পারে আপনার ডিভাইস ও তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে।